১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:২৬:৪৩ অপরাহ্ন


রমজান মাসে সুস্থ থাকতে করণীয়
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-০৬ ১৭:২১:০০
রমজান মাসে সুস্থ থাকতে করণীয় ছবি: সংগৃহীত


রমজান হলো মুমিনের আত্মিক উন্নতি ও শারীরিক সুস্থতার এক অপূর্ব সমন্বয়। রোজা রাখার প্রধান উদ্দেশ্য আল্লাহভীতি অর্জন করা হলেও, মানুষের শরীরের সঙ্গে আত্মার যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে, তার প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে রমজানের খাদ্যাভ্যাসে। আল্লাহ তায়ালা আত্মিক পরিশুদ্ধির মাধ্যম হিসেবে পানাহার ও ভোগ-সম্ভোগ ত্যাগের বিধান দিয়েছেন, যা পশুর বৈশিষ্ট্য দমন করে মানুষের ভেতর ফেরেশতাসুলভ গুণাবলি বিকশিত করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি সর্বদা পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করতেন। তিনি ইফতারে খেজুর ও পানি পান করতেন এবং কখনো খেজুরের সঙ্গে ক্ষীরা মিশিয়ে খেতেন। ইসলামের ইতিহাস থেকে জানা যায়, মদিনার মানুষের রোগবালাই কম হওয়ার মূল কারণ ছিল তাদের খাদ্যাভ্যাস—তারা ক্ষুধা না লাগলে খেতেন না এবং পেট ভরে খাওয়ার আগেই আহার শেষ করতেন। এই পরিমিতিবোধই হলো সুস্থ থাকার আদি ও অকৃত্রিম পদ্ধতি।

সুস্থভাবে রোজা পালনের জন্য সাহরি ও ইফতারে সুষম খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। সাহরিতে এমন খাবার নির্বাচন করা উচিত যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাবে এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে। এ ক্ষেত্রে শর্করা জাতীয় খাবার যেমন—চাল, গম, আলু বা দুধ-কলা এবং শারীরিক দুর্বলতা রোধে প্রোটিন হিসেবে ডিম বা দই খাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে এবং পানিশূন্যতা তৈরি করে এমন পানীয় যেমন চা বা কফি এড়িয়ে চলা ভালো।

ইফতারের সময় পাকস্থলীর ওপর চাপ কমাতে সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়া উচিত। খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নত, যা দ্রুত শরীরের ক্লান্তি দূর করে। এরপর লেবুর শরবত বা ফলের রসের মতো প্রাকৃতিক পানীয় এবং প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ হালকা খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত তেলযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর বিধায় এগুলো পরিহার করা আবশ্যক।

রমজান কেবল ইবাদতের মাস নয়, বরং এটি স্বাস্থ্যসচেতনতা তৈরিরও একটি অনন্য সময়। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে, তাঁদের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা। পরিমিত আহার আর আত্মিক সংযমের মাধ্যমে রমজান হয়ে উঠতে পারে একই সঙ্গে ইবাদত ও সুস্বাস্থ্যের মাস।