ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলেও বাংলাদেশের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আশাপ্রকাশ করেন যে, আগামী দুই-চারদিনের মধ্যে এই সংঘাতের সমাধান হয়ে গেলে জ্বালানি তেল কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিয়ে বাংলাদেশে কোনো সংকট তৈরি হবে না।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়, যেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় এবং সোমবার থেকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। বিশ্বজুড়ে এই ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলেও বাণিজ্যমন্ত্রী মনে করেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কিছু নেই এবং সরকার নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উল্লেখ করেন যে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে সাধারণত জাহাজগুলোকে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসতে হয়। এতে জাহাজের ভাড়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাজারের ওপর। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন যে, বাংলাদেশের জন্য এখনো তেমন কোনো সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মজুত সন্তোষজনক থাকায় বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারে বড় কোনো অস্থিরতার সম্ভাবনা দেখছে না সরকার।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে বলে জানা গেছে। দেশটির রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দেওয়া তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৫৫০ ছাড়িয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা বিশ্ব বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হলেও, বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মনে করছে সাময়িক এই অস্থিরতা দ্রুতই কেটে যাবে।