১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:১৮:৩৯ পূর্বাহ্ন


মাদককাণ্ডের খবরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলেন মেহজাবীন
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০২-২৪ ১৭:৩৭:০১
মাদককাণ্ডের খবরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলেন মেহজাবীন মেহজাবিন চৌধুরী


সম্প্রতি মাদককাণ্ডে নাম জড়িয়ে ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ তল্লাশি এবং মদ পাওয়ার যে অভিযোগ তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে মেহজাবীন এই বিভ্রান্তি নিরসন করেন এবং আইনি পদক্ষেপের কথা জানান।

সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে গত আগস্টে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরার পথে মেহজাবীনের লাগেজে ১৪ বোতল মদ পাওয়া গেছে। সেই সংবাদে আরও বলা হয়েছিল যে, তার সঙ্গে নির্মাতা আদনান আল রাজীব ও শঙ্খ দাসগুপ্ত ছিলেন এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়। মেহজাবীন এই পুরো ঘটনাকে ‘ক্লিকবেইট’ এবং মানহানিকর হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, মাদক সংক্রান্ত কোনো কারণে তাকে কখনোই বিমানবন্দরে থামানো হয়নি এবং তার কোনো লাগেজ বা হ্যান্ডব্যাগ আটক করা হয়নি। এমনকি বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তাও তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে মেহজাবীন প্রশ্ন তোলেন যে, যদি সত্যিই তার লাগেজে অবৈধ কিছু পাওয়া যেত, তবে সে সংক্রান্ত কোনো ছবি, ভিডিও বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কি কেউ দেখাতে পেরেছে? তিনি দাবি করেন, এই ভিত্তিহীন সংবাদের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই কেবলমাত্র তার ছবি ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। মেহজাবীনের মতে, এ ধরনের অপপ্রচার অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং একজন শিল্পীর সম্মানের ওপর সরাসরি আঘাত।

উল্লেখ্য যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তথ্য ভাইরাল হওয়ার পর থেকে মেহজাবীন ও তার ভক্তদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মেহজাবীন পুনরায় স্পষ্ট করেছেন যে, এই অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে তার কোনো দূরতম সংশ্লিষ্টতাও নেই। সম্মান রক্ষার্থে এবং অপপ্রচার বন্ধে তিনি ইতিমধ্যেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে ভক্তদের আশ্বস্ত করেছেন।

মেহজাবিনের সম্পূর্ণ পোস্ট:

সাম্প্রতিক যে ঘটনাটি নিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর প্রচার চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে আমি ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এ প্রসঙ্গে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই।
প্রথমত, উল্লিখিত কোন ঘটনায় আমাকে কখনোই বিমানবন্দরে থামানো হয়নি। আমার কোনো হ্যান্ডব্যাগ বা লাগেজও আটকানো হয়নি; আমার লাগেজ বা হ্যান্ডব্যাগে উল্লিখিত অভিযোগের কিছু পাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠেনা। যেসব কথা ছড়ানো হচ্ছে, সেরকম কোনো ঘটনার মুখোমুখি আমি হইনি। বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তা আমাকে কোনরুপ জিজ্ঞাসাবাদও করেননি।
আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার, আমার লাগেজ থেকে কিছু অবৈধ কিছু বের হওয়ার কোনো ছবি, ভিডিও বা কোনো ধরনের প্রমাণ কি আছে?
দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানহানি এখন খুব স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। যে খবরটি ছড়ানো হয়েছে, তার নিরিখে একটিও প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি যে আমার লাগেজে অবৈধ কিছু পাওয়া গেছে। অথচ ক্লিকবেইটের জন্য আমার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারুরই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া কাম্য নয়।
আমার বিরুদ্ধে এই সকল অভিযোগ অমূলক এবং আমি আবারও বলছি, এই ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে যা প্রকাশিত হয়েছে সেই ব্যাপারে আমার কোনই সংশ্লিষ্টতা নেই।