১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:৩১:৫৪ পূর্বাহ্ন


রহমতের দশ দিন: মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সর্বোত্তম আমল
সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০২-১৮ ১৯:০৮:৩৩
রহমতের দশ দিন: মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সর্বোত্তম আমল


ধর্ম ডেস্ক | ঢাকা

সিয়াম সাধনার মাস রমজান। এই মাসের প্রথম দশ দিন রহমতের জন্য নির্ধারিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "রমজান মাসের প্রথম দশ দিন রহমত, মাঝের দশ দিন মাগফিরাত এবং শেষ দশ দিন নাজাত বা জাহান্নাম থেকে মুক্তি।" (মিশকাত)। রহমতের এই দিনগুলোতে মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ পেতে নির্দিষ্ট কিছু আমলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আলেম সমাজ।

১. অধিক পরিমাণে রহমতের দোয়া পাঠ

রহমতের দশকের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ফরজ দোয়া না থাকলেও, আল্লাহর রহমত কামনায় নিচের দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করা মোস্তাহাব বা উত্তম:

উচ্চারণ: রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমিন।

অর্থ: "হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন; আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।" (সূরা মুমিনুন, আয়াত: ১১৮)।

২. তাকওয়া ও সহিহভাবে রোজা পালন

কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকাই রোজা নয়। চোখের হেফাজত, কানের হেফাজত এবং জবানের হেফাজত করা অপরিহার্য। মিথ্যা পরিহার এবং পরনিন্দা (গিবত) থেকে বেঁচে থাকাই হলো প্রকৃত রোজা, যা রহমতের দশকে আল্লাহর দিদার লাভে সাহায্য করে।

৩. পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও অনুধাবন

রমজান হলো কুরআন নাজিলের মাস। প্রথম দশ দিনে অন্তত একবার কুরআন খতমের নিয়ত করা এবং অর্থসহ তিলাওয়াত করা উত্তম। প্রতিদিন সাহরি বা ফজরের পর নির্দিষ্ট কিছু সময় কুরআনের জন্য বরাদ্দ রাখা আত্মিক প্রশান্তি বয়ে আনে।

৪. দান-সদকা ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো

রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দান করতেন। রহমতের এই দিনগুলোতে ইফতার করানো, দুস্থদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া এবং অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো অন্যতম সেরা আমল।

৫. নফল ইবাদত ও তওবা

পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাতের পাশাপাশি তারাবিহ নামাজ গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করা। এছাড়া শেষ রাতে তাহাজ্জুদ ও সালাতুত তাসবিহ পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে চোখের পানি ফেলে তওবা করা। মনে রাখতে হবে, রহমতের এই দশ দিন হলো আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নেওয়ার মোক্ষম সময়।

ওলামাদের পরামর্শ:

ইসলামিক চিন্তাবিদদের মতে, রমজানের প্রথম দশ দিন হলো পুরো মাসের প্রস্তুতির ভিত্তি। এই সময়ে ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে পরবর্তী মাগফিরাত ও নাজাতের দিনগুলো আরও সহজ হয়। অতিরিক্ত ঘুমানো বা অনর্থক সময় নষ্ট না করে জিকির ও তাসবিহ পাঠে মগ্ন থাকাই মুমিনের প্রকৃত পরিচয়।

পবিত্র এই মাসে আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহিহভাবে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।