হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দিলে ইরানের তেলক্ষেত্র ও জ্বালানি স্থাপনা ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সেই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুবাই উপকূলে কুয়েতের পতাকাবাহী ‘আল-সালমি’ নামক একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালায় ইরান।
হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
হামলার ধরণ: ড্রোন হামলার ফলে ট্যাঙ্কারটিতে আগুন ধরে যায় এবং কাঠামোগত ক্ষতি হয়।
জাহাজের সক্ষমতা: ট্যাঙ্কারটি প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করতে পারে, যার বাজারমূল্য ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
হতাহতের তথ্য: জাহাজটির মালিক ‘কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন’ এবং দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রেক্ষাপট: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ধারাবাহিকতায় এই হামলাটি চালানো হয়।
বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে প্রভাব
এই হামলার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে:
যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম: বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ছাড়িয়েছে।
গ্যাসোলিনের দাম: মূল্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘গ্যাসবাডি’র তথ্যমতে, সোমবার (৩০ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় খুচরা মূল্য তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৪ ডলার অতিক্রম করেছে।
ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর দলের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ তাঁরা ঘরোয়া বাজারে তেলের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গৃহস্থালি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন