১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:২২:৩৫ অপরাহ্ন


নির্মাণের তিন বছরের মধ্যে সড়কের ক্ষতি হলে দায়ী থাকবে ঠিকাদার
জাতীয় ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১০-০৮ ১৮:৩৯:৩১
নির্মাণের তিন বছরের মধ্যে সড়কের ক্ষতি হলে দায়ী থাকবে ঠিকাদার ছবি: সংগৃহীত


একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ; আবাসিক এলাকায় সড়ক নির্মাণে ড্রেনেজ বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা

     পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে দ্রুত সড়ক নষ্ট হওয়ার চিরাচরিত সমস্যা মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে যেকোনো আবাসিক এলাকায় সড়ক নির্মাণে বাধ্যতামূলকভাবে ড্রেনেজ বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। একই সঙ্গে নতুন নির্মিত কোনো সড়ক বা অবকাঠামোতে তিন বছরের মধ্যে বড় ধরনের ত্রুটি বা ক্ষতি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নিজ খরচে তা মেরামত করে দিতে হবে। এজন্য প্রতিটি নির্মাণ চুক্তিতে গ্যারান্টি বা দায়বদ্ধতার কঠোর শর্ত (ক্লজ) অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এসব যুগান্তকারী নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভা শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার এখন যেকোনো অবকাঠামো ও সড়ক নির্মাণে গুণগত মান এবং টেকসই হওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন, "নির্মাণের তিন বছরের মধ্যে মানজনিত কারণে বড় কোনো ক্ষতি হলে দায়িত্ব ঠিকাদারকেই নিতে হবে। এটি সাধারণ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।" এছাড়া ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি পানি কোথায় নিষ্কাশিত হবে এবং নদীতে ফেলার আগে তা পরিশোধনে এসটিপির (STP) সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

অবকাঠামোর গুণগত মানের পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের অনাবশ্যক ব্যয় কমানোর ওপরও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন একনেক প্রধান। সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প থেকে গাড়ি কেনার বরাদ্দ বাতিল এবং অপ্রয়োজনীয় পরামর্শক ব্যয় কাটছাঁটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিনের তীব্র সংকট দূর করতে প্রথম ধাপে ৩০টি নতুন মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একনেকের এই সভায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিতকরণে রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণসহ মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।