১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:২০:৩০ অপরাহ্ন


নানা পাটেকর আয়ের ৯০ শতাংশ বিলিয়ে দিতেন, কাটাতেন সাদাসিধে জীবন
বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১০-০৮ ১৩:১৩:১২
নানা পাটেকর আয়ের ৯০ শতাংশ বিলিয়ে দিতেন, কাটাতেন সাদাসিধে জীবন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিমান ও প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর I ছবি: সংগৃহীত


৭৫ বছর বয়সে গোয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রখ্যাত ভারতীয় অভিনেতা ও সমাজসেবক নানা পাটেকরের প্রয়াণ; শোকে আচ্ছন্ন বিনোদনজগৎ

      ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিমান ও কালজয়ী প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ৭৫ বছর বয়সে গোয়ার নিজস্ব বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিনেতার পুত্র মালহার পাটেকর ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

কিশোর বয়সে মাত্র ৩৫ টাকা মাসিক আয় ও একবেলা খাবারের তাগিদে সিনেমার পোস্টার এঁকে দিন শুরু করা এই মানুষটি সময়ের পরিক্রমায় ভারতীয় সিনেমার শীর্ষে পৌঁছান। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও পদ্মশ্রীজয়ী এই প্রতিভাবান শিল্পী খ্যাতি ও অর্থমূল্যের শীর্ষে পৌঁছালেও ভুলে যাননি শৈশবের চরম দারিদ্র্যের দিনগুলোর কথা। জীবনের উপার্জিত আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই নিরবে বিলিয়ে দিয়েছেন অসহায় ও প্রপীড়িত মানুষের কল্যাণে।

সামাজিক ও দাতব্য কর্মে নিবেদিতপ্রাণ নানা পাটেকর ২০১৫ সালে মহারাষ্ট্রের ভয়াবহ খরার সময় আত্মঘাতী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলোর পাশে স্বশরীরে গিয়ে দাঁড়ান। পরবর্তীতে মহারাষ্ট্রের কৃষক সমাজকে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রদান, পানির উৎস পুনরুদ্ধার এবং গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষ্যে অভিনেতা মকরন্দ অনাসপুরের সঙ্গে গঠন করেন ‘নাম ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি ও তাঁর দল প্রায় ৭৭ লাখ কৃষক ও ২,৬00-এর বেশি কৃষক বিধবাকে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। মৃত্যুর আগপর্যন্ত চলতি ২০২৬ সালেও তিনি সংস্থাটির হয়ে জলসংরক্ষণ ও গ্রামীণ সামাজিক পুনর্গঠনমূলক কাজে সক্রিয় ছিলেন।

পর্দায় ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘অব তক ছাপ্পান’ কিংবা ‘ওয়েলকাম’-এর মতো তুমুল জনপ্রিয় ও বহুমাত্রিক চরিত্রে অভিনয় করে কয়েক প্রজন্মকে মুগ্ধ করা এই কিংবদন্তির অকালপ্রয়াণে রূপালি পর্দা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। কোটি অনুরাগী ও মহারাষ্ট্রের লাখো প্রান্তিক কৃষকের হৃদয়ে তিনি অমর হয়ে থাকবেন চিরকাল।