২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া কাগজপত্র হালনাগাদের সুযোগ বিআরটিএ-র; ট্রাফিক আইন ভাঙলে ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে পয়েন্ট কাটার সিদ্ধান্ত কার্যকর
দেশের মোটরবাইক ও চার চাকার যানবাহন মালিকদের জন্য বড় স্বস্তির সুযোগ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে কোনো ধরনের বিলম্ব জরিমানা ব্যতিরেকে শুধুমাত্র মূল কর ও নির্ধারিত ফি প্রদান করে মোটরযানের মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার বিশেষ সুযোগ দিয়েছে সংস্থাটি। তবে একই সাথে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী অসচেতন চালকদের জন্য কঠোর বার্তা হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সে দোষসূচক ‘পয়েন্ট কর্তন’ পদ্ধতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
বিআরটিএর জারি করা সর্বশেষ এক জরুরি নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে বকেয়া ফি জমা দিলে গ্রাহকদের অতিরিক্ত কোনো জরিমানা গুণতে হবে না। যানবাহন মালিক ও চালকদের আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে এই সুযোগ গ্রহণ করে কাগজপত্র শতভাগ হালনাগাদ করে নেওয়ার বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।
মালিকানা হস্তান্তরে চরম সতর্কতা জারি: যানবাহন বা মোটরসাইকেল বিক্রির পর নতুন ক্রেতার নামে বিআরটিএ সনদে মালিকানা বদল না করলে গুরুতর আর্থিক ও আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন মূল বা পুরোনো মালিক। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা উল্লেখ করে বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তন সম্পন্ন না হলে উক্ত যানবাহনের বাৎসরিক নির্ধারিত অগ্রিম আয়কর (AIT), অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবেশ সারচার্জের সমস্ত আর্থিক ও আইনি দায়ভার পুরোনো মালিকের ওপরই বর্তাবে। বর্তমানে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (BSP)-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে অত্যন্ত সহজে ক্রেতা-বিক্রেতার যৌথ আবেদনে মালিকানা পরিবর্তনের সুবিধা চালু রয়েছে।
চালকদের সতর্কবার্তা: ড্রাইভিং লাইসেন্সে 'পয়েন্ট কর্তন' কার্যকর: অন্যদিকে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সে দোষসূচক পয়েন্ট কাটার বিধান পুরোদমে চালু করেছে বিআরটিএ।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে সর্বমোট ১২ পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে। ওভারস্পিডিং, সিগন্যাল অমান্য করা, বেপরোয়া ড্রাইভিংসহ সড়ক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে জরিমানার পাশাপাশি অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় মূল ১২ পয়েন্ট থেকে নির্দিষ্ট পয়েন্ট কেটে নেওয়া হবে। পয়েন্ট শূন্যে নেমে এলে সংশ্লিষ্ট চালকের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। ফলে চালকদের সতর্কতার সাথে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।