প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ, ২০২৬) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে ‘ফার্মার কার্ড’(কৃষক কার্ড) প্রণয়ন সেলের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে তিনি এই কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন এবং আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন।
ডিজিটাল বাংলাদেশ ও কৃষি সুরক্ষা
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ফার্মার কার্ড কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়; এটি কৃষকের অধিকার, মর্যাদা এবং নিরাপত্তার প্রতীক।” এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি ভর্তুকি, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সেবা পাবেন। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রকৃত কৃষকরা উপকৃত হবেন।
পাইলট প্রকল্পের বিস্তারিত
প্রাথমিকভাবে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে:
উদ্বোধন: ১৪ এপ্রিল, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা থেকে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
আওতাধীন এলাকা: টাঙ্গাইল সদরসহ দেশের ১১টি উপজেলায় একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হবে। অন্য উপজেলাগুলো হলো—পঞ্চগড় সদর, বোদা (পঞ্চগড়), শিবগঞ্জ (বগুড়া), শৈলকুপা (ঝিনাইদহ), নেছারাবাদ (পিরোজপুর), টেকনাফ (কক্সবাজার), আদর্শ সদর (কুমিল্লা), ইসলামপুর (জামালপুর), গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) এবং জুরি (মৌলভীবাজার)।
উপকারভোগী: প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২২,০০০ কৃষক এই কার্ড পাবেন।
আর্থিক অনুদান: কার্ডধারী ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা বছরে গড়ে ২,৫০০ টাকা করে নগদ প্রণোদনা পাবেন।
কার্ডের বহুমুখী সুবিধা
ফার্মার কার্ডটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা যা যা পাবেন:
১. সার ও বীজ: ন্যায্যমূল্যে সার, উন্নত মানের বীজ এবং কীটনাশক ক্রয়।
২. ঋণ সুবিধা: সহজ শর্তে কৃষি ঋণ এবং ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ সুবিধা।
৩. সেচ ও যন্ত্রপাতি: সাশ্রয়ী মূল্যে সেচ সুবিধা এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার।
৪. বীমা: ফসলের বীমা (Crop Insurance) সুবিধা।
৫. সরাসরি বিক্রয়: কোনো দালাল ছাড়াই সরাসরি সরকারের কাছে ন্যায্যমূল্যে ফসল বিক্রির সুযোগ।
ডাটাবেজ তৈরি
প্রধানমন্ত্রী সকল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে কৃষকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা যায়। এতে কেবল ধান চাষি নয়, মৎস্য চাষি এবং পশুপালনকারীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।