১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:৪৭:৩০ অপরাহ্ন


পরিবারের প্রবল আপত্তি, শিমলা থেকে মুম্বাই এসেছিলেন ‘লাপতা ​​লেডিজ’ অভিনেত্রী
বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-২৯ ১৯:৫২:২২
পরিবারের প্রবল আপত্তি, শিমলা থেকে মুম্বাই এসেছিলেন ‘লাপতা ​​লেডিজ’ অভিনেত্রী অভিনেত্রী প্রতিভা রানটা I ছবি: সংগৃহীত


‘দ্য রেভোল্যুশনারিজ’-এ ঐতিহাসিক বিপ্লবী অবতারে প্রতিভা রানটা; পরিবারকে রাজি করিয়ে মুম্বাই আসার স্মৃতিচারণ

        পরিবারের তীব্র আপত্তি ও বাধা অতিক্রম করে অভিনেত্রী হওয়ার অদম্য স্বপ্ন বুকে নিয়ে ভারতের পাহাড়ি শহর শিমলা থেকে মুম্বাইয়ে পা রেখেছিলেন প্রতিভা রানটা। টেলিভিশন ও ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখার পর অস্কারের দৌড়ে থাকা কিরণ রাওয়ের বহুল প্রশংসিত ‘লাপতা লেডিজ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। পরবর্তীতে নেটফ্লিক্সের ‘অ্যাকিউজড’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য দর্শকদের মন জয় করেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান নির্মাতা নিখিল আদভানি পরিচালিত নতুন ইতিহাসভিত্তিক ওয়েব সিরিজ ‘দ্য রেভোল্যুশনারিজ’-এ অভিনয়ের সুবাদে বিনোদন পাড়ায় তুমুল আলোচনায় রয়েছেন এই অভিনেত্রী। ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিরিজে ঐতিহাসিক তরুণী বিপ্লবী প্রতিভা লাহিড়ীর শক্তিশালী চরিত্রে দেখা মিলেছে তাঁর। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের কঠিন অভিনয় জীবন, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নারী ক্ষমতায়ন ও নতুন সিরিজ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন প্রতিভা।

সাক্ষাৎকারের শুরুতে শিমলা থেকে মুম্বাইয়ে আসার দিনগুলোর কথা স্মরণ করে আবেগঘন কণ্ঠে প্রতিভা বলেন, "আমি যখন প্রথম মুম্বাই এসেছিলাম, নিজের জীবনের জন্য সেটাই ছিল আমার কাছে সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা। তবে শিমলা থেকে এখানে আসার জন্য রক্ষণশীল পরিবারকে রাজি করানোই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও যুদ্ধ। কারণ আমাদের পরিবার থেকে আগে কখনো কেউ কাজের সূত্রে বাইরে আসেনি। তবে পৌঁছানোর পর সুযোগের সৎব্যবহার করে প্রতিটি কাজে নিজের সর্বস্ব দিয়েছি।" কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি অডিশন দেওয়া শুরু করা প্রতিভার ভাগ্য খোলে ‘কুরবান’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে। পরবর্তীতে অডিশনের কড়া পরীক্ষা দিয়েই ‘লাপতা লেডিজ’ ও ‘অ্যাকিউজড’-এ সুযোগ পান তিনি। কেরিয়ারের প্রতিটি চরিত্র বাস্তব জীবনের প্রতিভা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হওয়া সত্ত্বেও পর্দায় তা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারাকে নিজের বড় অর্জন মনে করেন এই তারকা।

অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর আলোচিত সিরিজ ‘দ্য রেভোল্যুশনারিজ’-এ একজন বিপ্লবীর চরিত্রে রূপদান প্রসঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের লড়াইয়ের সাথে এর গভীর যোগসূত্র খুঁজে পান প্রতিভা। তাঁর মতে, কোনো বড় পরিবর্তনের আগে সবার আগে নিজের ভেতরের চেতনায় বিপ্লব ঘটাতে হয় এবং নিজের সিদ্ধান্তের ওপর অধিকার রাখার পরম সাহস দেখাতে হয়। প্রতিভা বলেন, "আমি নিজের জীবন ও স্বপ্নের অগ্রাধিকারের জন্যই পরিবারে একপ্রকার বিপ্লব করেছিলাম। পরিবারে কারও এই পেশার সাথে দূরতম সম্পর্ক না থাকলেও, পরবর্তীতে আমার অদম্য জেদের কাছে তাঁদের সমর্থন দিতে হয়েছে। আজ তাঁরা যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা নিয়ে আমি গর্ববোধ করি।"

নারী ক্ষমতায়ন ও সমাজের মানসিকতা নিয়ে সোজাসাপ্টা মন্তব্য করে প্রতিভা জানান, নারীরা তাঁদের জীবনের যা করতে চান, কোনো বাধা ছাড়া তা করতে পারাই হলো আসল ক্ষমতায়ন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আমাদের আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে আজ নারীরা সব ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন, কিন্তু বাস্তব চিত্রটা এখনো বেশ ভিন্ন। আজও সমাজে বহু মেয়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিবারের মৌলিক সমর্থনটুকু পেতে লড়াই করতে হয়।"

নারী হওয়ার কারণে কোনো ক্ষেত্রে হীনম্মন্যতায় ভুগেছেন কি না জানতে চাইলে প্রতিভা বলেন, "হীনম্মন্যতার অনুভূতি যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে আসতে পারে। তবে কোনো নারী যখন নিজের বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তখন তাকে অনেক ভেবেচিন্তে এগোতে হয়; কারণ সমাজ তাকে খুব দ্রুত বিচার (Judge) করে ফেলে। আমরা এমন এক সামাজিক বাস্তবতায় বাস করি, যেখানে নারী হিসেবে জন্ম নেওয়ার কারণেই প্রতিটি পদক্ষেপে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়।"

সিরিজটিতে ঐতিহাসিক চরিত্রে রূপদানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, ইতিহাসের সাথে যুক্ত চরিত্রে অভিনয়ের প্রধান শর্ত হলো সেই সময়কালের সংগ্রামকে নিবিড়ভাবে অনুভব করা ও চরিত্রের প্রতি শতভাগ সৎ থাকা। নির্মাতা নিখিল আদভানি ও তাঁর টিম এ বিষয়ে গভীর ঐতিহাসিক গবেষণা চালানোর পাশাপাশি বিনোদনের স্বার্থে ড্রামাটিক রূপ দিয়েছেন।

মনোমুগ্ধকর বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক এই সিরিজের সাথে নিজের জন্মশহর শিমলার দারুণ এক ঐতিহাসিক মিল খুঁজে পেয়েছেন প্রতিভা। তিনি বলেন, "আমি শিমলার মতো এক ঐতিহ্যবাহী শহর থেকে এসেছি, যার প্রতিটি স্থাপত্যে ব্রিটিশ ও স্কটিশ আমলের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। ১৮৬৪ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত শিমলা ছিল ব্রিটিশ ভারতের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী।" প্রতিভার ভাষায়, "সিরিজের কাজ করতে গিয়ে ঐতিহাসিক চার বিপ্লবী—রাসবিহারী বসু, শচীন্দ্রনাথ সান্যাল, বাঘা যতীন ও আমার চরিত্র প্রতিভা লাহিড়ী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়াশোনা করেছি। তাঁদের অসীম সাহস ও আত্মত্যাগ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।"