১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:৩৯:১২ অপরাহ্ন


ইরানের জন্য এবার শেষ সুযোগ: ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি!
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৮-০৪ ১৪:৫৪:৫২
ইরানের জন্য এবার শেষ সুযোগ: ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি!


ইরানের জন্য এবার শেষ সুযোগ: ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

সমঝোতায় না এলে পরিস্থিতি হবে আরও ভয়াবহ; তেহরানের আলোচনা অস্বীকার, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা


      মধ্যপ্রাচ্যে গত ৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মাঝে ইরানকে আবারও চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তেহরানের সামনে এটিই ‘শেষ সুযোগ’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দেওয়া প্রস্তাবে রাজি না হলে ইরানকে চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।


হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প দাবি করেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর অনুরোধে তিনি ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছেন। তবে শুরু থেকেই ট্রাম্পের আলোচনার দাবি উড়িয়ে দিয়ে অস্বীকার করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হামলা ও হরমুজ প্রণালী সংকট


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আকস্মিক বিমান হামলা চালানোর পর থেকে পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও পরবর্তীতে তা ভেঙে যায়। বর্তমানে যুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালী’।


  • ট্রাম্পের মূল দাবি: হরমুজ প্রণালী অনতিবিলম্বে উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ (নিরস্ত্রীকরণ) করা।


  • ইরানের অবস্থান: ইরান প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চায় এবং বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ফি আদায়ের দাবি করছে। ইরান কেবল তাদের উপকূলঘেঁষা পথ ব্যবহার করতে দিচ্ছে।


  • হামলার নতুন তথ্য: আজ মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (UKMTO) জানিয়েছে, ওমান সংলগ্ন হরমুজ প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে অজ্ঞাত স্থান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।


মিত্রদের অনুরোধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হুমকি


ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া ও এয়ারফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের জানান, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের অনুরোধে তিনি ইরানে বড় ধরনের হামলা থেকে সাময়িক বিরত আছেন। তা না হলে ইরানে যে ধরনের আক্রমণ হতো, তা হতো “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা”।

ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের পাল্টা অবরোধ অব্যাহত। আমরা না চাইলে কিংবা একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি বা আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কিছুই পৌঁছাতে দেওয়া হবে না।”


বিষয়মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ডোনাল্ড ট্রাম্প)ইরান (ইসমাইল বাঘাই)
কূটনৈতিক আলোচনাআলোচনা চলছে এবং এটিই চুক্তি সইয়ের শেষ সুযোগযুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আলোচনা চলছে না
হরমুজ প্রণালীঅবাধে জাহাজ চলাচল ও অবরোধ প্রত্যাহার নিশ্চিত করাওমানের সাথে নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে সমঝোতা চলছে
পারমাণবিক কর্মসূচিসম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বাধ্যতামূলকপারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক

ওমানের মধ্যস্থতা ও তেহরানের বক্তব্য


এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিয়ে তারা প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছেন। তবে সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালী এখনই আগের মতো পুরোপুরি খুলে দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।