১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:২৬:৫৮ অপরাহ্ন


বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে সিম রিপ্লেসমেন্ট, গ্রেপ্তার ৯!
অনলাইন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-২৯ ১৭:৪৭:৩৪
বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে সিম রিপ্লেসমেন্ট, গ্রেপ্তার ৯! ছবি: সংগৃহীত


গ্রাহকের আঙুলের ছাপের প্রযুক্তিগত অপব্যবহার ও এমএফএস অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মূলহোতারা শনাক্ত

       বাগেরহাটে গ্রাহকদের অতি সংবেদনশীল বায়োমেট্রিক তথ্যের চরম অপব্যবহার, কৃত্রিম ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরি করে গোপনে সিম রিপ্লেসমেন্ট এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎকারী এক আন্তর্জাতিক মানের হাইটেক প্রতারক চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম প্রতারক চক্রটির গ্রেপ্তার ও চাঞ্চল্যকর সব অপরাধ পদ্ধতির তথ্য বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশের অনুসন্ধান ও ব্রিফিংয়ে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রতারকরা অত্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তিগত কৌশলে অনিয়মের জাল বিছিয়েছিল। তারা প্রথমে সাধারণ গ্রাহকদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ প্রতারণামূলকভাবে সংরক্ষণ করত। পরবর্তীতে মোবাইল ও ডিভাইসের স্ক্রিনে প্রদর্শিত উচ্চমানের ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্যাটার্ন স্ক্রিন রেকর্ডিং অ্যাপসের মাধ্যমে ধারণ ও সংগ্রহ করত। সংগ্রহের পর ডিজিটাল এডিটিংয়ের মাধ্যমে ফিঙ্গারপ্রিন্টের দৃশ্যমান প্যাটার্ন আলাদা করে সেটির ডিজিটাল প্যাটার্ন পুনরুৎপাদন ও কৃত্রিম রাবার বা সিলিকন ছাপ তৈরি করত।

পরবর্তীতে টেলিযোগাযোগ টেলিকম বুথগুলোতে কৃত্রিম ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে আসল গ্রাহকের অজান্তেই সিম রিপ্লেসমেন্ট করা হতো। নতুন করে রিপ্লেস হওয়া সেই সিম মোবাইল ফোনে চালু করে তাত্ক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগী গ্রাহকের বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো এমএফএস অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে দ্রুত ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অর্থ হাতিয়ে নিত চক্রটি।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত ২৭ জুন ভোরে মোংলা এলাকার এক ভুক্তভোগীর ৩টি ভিন্ন সিমে সংরক্ষিত নগদ ও বিকাশ অ্যাকাউন্টের মোট ২ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৮ টাকা অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সরিয়ে নেয় এই প্রতারক দল। এ ঘটনায় মোংলা থানায় একটি সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে ধারাবাহিক প্রযুক্তিগত অভিযানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও ৭ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় গোয়েন্দারা। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে প্রযুক্তিগত কাজে ব্যবহৃত ১১টি আধুনিক স্মার্টফোন এবং বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া নগদ ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— ইয়াছিন সওদাগর (২১), মো. শামীম মেখ (২৭), রাশেদ মোড়ল (২০), এহসানুল হাসান রাকিব (৩২), ফেরদাউস (২১), আশরাফুল ইসলাম (২৬), মেহেদী হাসান (২৯), মো. নাজমুল হাসান (২০) এবং মো. মামুন গাজী (২১)।

পুলিশ জানিয়েছে, এই আসামিরা সবাই পেশাদার সাইবার অপরাধী এবং এর আগেও তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় অনুরুপ বায়োমেট্রিক জালিয়াতি ও অনলাইন অর্থ আত্মসাতের অপরাধে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৪ জন আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৫ আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সাথে এই সংঘবদ্ধ চক্রের পেছনে থাকা টেলিকম অসাধু প্রতিনিধি ও অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে ডিবি পুলিশের ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।