১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:৪৯:৩৬ অপরাহ্ন


সরকারের ১৮০ দিনে আমরা হানিমুন পিরিয়ড শেষ করেছি: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৮-১৭ ১৪:১৫:১৬
সরকারের ১৮০ দিনে আমরা হানিমুন পিরিয়ড শেষ করেছি: শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া


গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি চালুর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস আ ন ম এহছানুল হক মিলনের

      অন্তর্বর্তীকালীন বা বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ শেষ হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এই নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন দীর্ঘদিনের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করা সম্পন্ন হয়েছে। এখন চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার পালা।

আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত ‘কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় রেটিং ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রসঙ্গে ক্ষোভ


আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং সংস্থা কিউএস (QS)-এর মূল্যায়ন মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রেটিং নির্ধারণের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিং ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর মূল বক্তব্যসমূহ:

“কিউএস রেটিং কেন শুধু উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে তুলনা করবে? সার্কভুক্ত বা আঞ্চলিক দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আলাদা মূল্যায়ন কেন নয়? আঞ্চলিক ভিত্তিতে রেটিং হলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অনেক দূর এগিয়ে থাকত।”

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এতদিন পিএইচডি (PhD) প্রোগ্রাম চালু না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন:

  • দীর্ঘ নীরবতা: বিগত ২০ বছর ধরে কেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডি ডিগ্রি চালুর পরিবেশ তৈরি করা গেল না?

  • উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের ভূমিকা: এতগুলো বছর কেন নীতিনির্ধারক ও অংশীদারেরা এ বিষয়ে সরব ছিলেন না বা কার্যকর পদক্ষেপ নেননি?

গবেষণা জোরদার ও মেধা পাচার রোধের প্রতিশ্রুতি


দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের দৈন্যদশা নিরসনে সরকারের নতুন রূপরেখার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি স্বীকার করেন যে, দেশীয় অনেক প্রখ্যাত গবেষক বিদেশে গিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মেধার স্বাক্ষর রাখলেও নিজ দেশে তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

            শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষিত প্রধান ৪ অগ্রাধিকার
   --------------------------------------------------------------
   ১. দেশীয় ও প্রবাসী মেধাবী গবেষকদের খুঁজে বের করে দেশে কাজে লাগানো
   ২. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেট ও সার্বিক গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা
   ৩. মানসম্মত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত পিএইচডি চালু করা
   ৪. আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান সুদৃঢ় করতে আঞ্চলিক মানদণ্ড তুলে ধরা
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে সরকারের নতুন দৃষ্টিভঙ্গিলক্ষ্য ও কৌশল
সমস্যা চিহ্নিতকরণসরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে সার্বিক সংকট ম্যাপিং সম্পন্ন
গবেষকদের মূল্যায়নদেশি-বিদেশি গবেষকদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে যুক্তকরণ
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়মাননিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে পিএইচডি ডিগ্রি চালুর উদ্যোগ
বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংআঞ্চলিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া
শিক্ষামন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়ানো এবং মেধাবী তরুণ গবেষকদের দেশে ধরে রেখে তাঁদের মেধা রাষ্ট্র গঠনে কাজে লাগানোর বিষয়টিকে সরকার এখন সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে।