১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:০০:১৪ অপরাহ্ন


লতা মঙ্গেশকরের কোলে বসা ছোট্ট শিশুটি বাংলাদেশের কোন গায়িকা?
বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-২২ ১৫:১৬:২০
লতা মঙ্গেশকরের কোলে বসা ছোট্ট শিশুটি বাংলাদেশের কোন গায়িকা? ছবি: সংগৃহীত


৯ বছর বয়সে কলকাতায় লতাজির সান্নিধ্য পেয়েছিলেন আলিফ আলাউদ্দীন; ৩৫ বছর পর প্রকাশ্যে এল দুর্লভ স্মৃতিচিত্র

        উপমহাদেশের সংগীত জগতের কিংবদন্তি লতা মঙ্গেশকরের কোলে বসে থাকা এই ছোট্ট শিশুটি কে? আজ মঙ্গলবার সকালে চিত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেন ও সংগীতপ্রেমীদের মাঝে তৈরি হয়েছে তুমুল কৌতুহল। শিশুটি আর কেউ নন, বাংলাদেশের সুপরিচিত সংগীতশিল্পী আলিফ আলাউদ্দীন—যাঁর পিতা ছিলেন দেশের বরেণ্য সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলী এবং মা প্রখ্যাত শিল্পী সালমা সুলতানা। মাত্র ৯ বছর বয়সে কলকাতায় গিয়ে সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের সান্নিধ্য পাওয়ার সেই স্মৃতির কথা দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।

উপমহাদেশীয় সংগীতে লতা মঙ্গেশকর এক চিরন্তন নাম। তাঁর সান্নিধ্য পাওয়া যেখানে যেকোনো শিল্পীর জন্য পরম আরাধ্য, সেখানে মাত্র ৯ বছর বয়সে এই কিংবদন্তির কোলে বসার বিরল সৌভাগ্য হয়েছিল আলিফ আলাউদ্দীনের। ঘটনাটি নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকের। কলকাতার একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাবা আলাউদ্দীন আলীর সঙ্গে গিয়েছিলেন ছোট আলিফ। সেখানেই ক্যামরাবন্দী হয়েছিল অবিস্মরণীয় সেই মুহূর্তটি।

আজ মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে সেই পুরোনো দুর্লভ স্থিরচিত্রটি পোস্ট করেন আলিফ আলাউদ্দীন। ছবিতে দেখা যায়, লতা মঙ্গেশকর অত্যন্ত আদরে পরম মমতায় নিজের কোলে বসিয়ে রেখেছেন ছোট্ট আলিফকে। ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর আলিফ জানান, সময়টা সম্ভবত ১৯৯০ কিংবা ১৯৯১ সালের দিকে। কলকাতা নগরীর ৪০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কলকাতার স্টেডিয়ামে এক সুবিশাল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ভারত ও বাংলাদেশের বরেণ্য শিল্পী রুনা লায়লা, আলাউদ্দীন আলী, ভূপেন হাজারিকা ও লতা মঙ্গেশকরকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

স্মৃতিচারণ করে আলিফ বলেন, "আমরা তখন কলকাতার ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ওবেরয় হোটেলে উঠেছিলাম। কিংবদন্তি রুনা লায়লা আন্টির মাধ্যমেই লতাজির হোটেল স্যুইটে গিয়ে ওনার সঙ্গে দেখা করার দারুণ সুযোগ হয় আমাদের।"

হোটেল কক্ষে কাটানো সেই ২০-২৫ মিনিটের স্মৃতি এখনো আলিফের মনে অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি বলেন, "তখন আমি তো বাচ্চা মানুষ, ওটার বিশালতা বোঝার বয়স আমার ছিল না। তবে আমার চেয়েও বেশি ব্যাকুল ও রোমাঞ্চিত ছিলেন আমার আম্মু (সালমা সুলতানা)। তিনি লতাজির অন্ধ ভক্ত ছিলেন। লিফটে ওঠার সময় আম্মু রুনা আন্টিকে বলছিলেন, ‘রুনা আপা, আমার খুব নার্ভাস লাগছে।’ লতাজি রুম থেকে বের হওয়ার পর তাঁর ব্যক্তিত্বের দ্যুতি দেখে আমরা সবাই অভিভূত হয়ে পড়েছিলাম।"

ছবি তোলার মুহূর্তটির বর্ণনা দিয়ে আলিফ আরও বলেন, "লতাজি নিজেই পরম স্নেহে আমাকে তাঁর পাশে কোলে বসিয়ে ছবিটি তোলেন। আমার সঙ্গে রুনা আন্টির মেয়ে তানি লায়লাও ছবি তুলেছিল। এমনকি আমার আম্মু যখন লতাজির সঙ্গে ছবি তোলেন, তখন লতাজি উঠে দাঁড়াতে চাইলে আম্মু অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে ওনাকে বসিয়ে রেখেই পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। প্রবীণদের প্রতি সেই শ্রদ্ধা বোধ দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।"

ঐতিহাসিক সেই অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেছিলেন লতা মঙ্গেশকর, রুনা লায়লা ও ভূপেন হাজারিকা; আর আলাউদ্দীন আলী সংগীত পরিচালনা ও রুনা লায়লার সঙ্গে পরিবেশনায় অংশ নেন। দীর্ঘদিন অ্যালবামে জমিয়ে রাখা সেই ছবি সম্প্রতি আলিফের স্বামী কাজী ফয়সাল আহমেদ স্ক্যান করে ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশের পর অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া আলিফকে নতুন করে উপলব্ধি করিয়েছে—শৈশবের সেই ছোট্ট মুহূর্তটি আসলে তাঁর জীবনের কত বড় স্বর্গীয় প্রাপ্তি ছিল।