১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:৩৮:১১ অপরাহ্ন


এবার ভিন্নরূপে ফিরলেন প্রসেনজিৎ!
বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-১৯ ১৩:৫৬:১৩
এবার ভিন্নরূপে ফিরলেন প্রসেনজিৎ! টলিউড মেগাস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় I ছবি: সংগৃহীত


চিকিৎসার বাণিজ্যিকীকরণ ও বাবা-ছেলের নৈতিক দ্বন্দ্বের গল্পে পর্দায় প্রসেনজিৎ-ঋদ্ধি জুটি

       গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রে কখনো দুর্ধর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা আবার কখনো রহস্যভেদী কাকাবাবুর চরিত্রে পর্দায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তিনি। তবে এবার সেই গতানুগতিক নায়কোচিত ইমেজ ভেঙে একেবারে ভিন্ন এক অবতারে দর্শকদের সামনে এলেন টলিউড মেগাস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। কোনো বাণিজ্যিক নায়কের রূপ নয়, এবার এক আদর্শবান চিকিৎসকের ভূমিকায় পর্দায় হাজির হয়েছেন তিনি। পাভেল পরিচালিত তাঁর নতুন চলচ্চিত্র ‘ডাক্তার কাকু’ গতকাল শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেয়েছে।

সিনেমাটিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত তরুণ অভিনেতা ঋদ্ধি সেন এবং অভিনেত্রী এনা সাহা।

‘ডাক্তার কাকু’ চলচ্চিত্রের মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে বাবা ও ছেলের জটিল সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। গল্পে বাবা ও ছেলে দুজনই পেশায় চিকিৎসক, কিন্তু চিকিৎসা পেশা ও সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার দৃষ্টিভঙ্গি ও চিকিৎসাদানের দর্শনে তাঁদের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। ব্যক্তিগত চরম মতপার্থক্যের পাশাপাশি যখন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচানোর গুরুদায়িত্ব সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন তাঁদের পারিবারিক সম্পর্কের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনই সিনেমার মূল বিষয় হয়ে ওঠে।

এর পাশাপাশি বর্তমান যুগে চিকিৎসাব্যবস্থাকে ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্যের বাস্তবচিত্র সিনেমার অন্যতম প্রধান উপজীব্য। উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিপুল অর্থ খরচের প্রয়োজনীয়তা, স্বাস্থ্য খাতের দ্রুত বাণিজ্যিকীকরণ এবং পেশাগত নৈতিকতার তীব্র সংকট—এসব গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রশ্নকে সিনেমার সংলাপে ও দৃশ্যে সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

ছবির প্রচারণায় ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রসেনজিৎ জানান, নতুন প্রজন্মের সেরা অভিনেতাদের কাজ থেকে তিনি সবসময় শেখার চেষ্টা করেন। ভারতের জাতীয় পুরস্কার পাওয়া তরুণ প্রতিভাবান অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করাটাই ‘ডাক্তার কাকু’ সিনেমায় যুক্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

সোহাগভরা কণ্ঠে প্রসেনজিৎ বলেন, "ঋদ্ধির কোনো অভিনয় বা ভিডিও ভালো লাগলে আমি মাঝরাতেও তাকে মেসেজ দিয়ে প্রশংসা করি। বর্তমান নতুন প্রজন্মের নিজস্ব একটি আধুনিক অভিনয়ের ভাষা তৈরি হয়েছে, সেই ভাষার সঙ্গে নিজের অভিনয়কে খাপ খাইয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যেকোনো জটিল দৃশ্যে যাওয়ার আগে শুটিং সেটে আমি ও ঋদ্ধি একসঙ্গে বসে স্ক্রিপ্ট রিডিং করতাম।"

দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে ‘ডাক্তার কাকু’ ছবির মাধ্যমেই প্রথমবার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসকের চরিত্রে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন প্রসেনজিৎ। তবে চরিত্রটি কেবল চিকিৎসকের পেশাগত গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে খাঁটি মধ্যবিত্ত মানসিকতা, নিজস্ব অটুট বিশ্বাস, আদর্শবোধ ও সন্তানের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব। প্রসেনজিতের ভাষায়, "চলচ্চিত্রটিতে প্রথাগত বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনের খুব পরিচিত আবহ ও শিকড়ের কাছাকাছি থাকা বাঙালিয়ানা ফুটে উঠেছে। চরিত্রটি অতি পরিচিত মনে হলেও এমন কাজ আমি আগে কখনো করিনি।"

অন্য এক সাক্ষাৎকারে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদ প্রতিদিন’-কে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "আমি ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ একজন মানুষ এবং অতীতের স্মৃতি ও শিকড়কে সবসময় আঁকড়ে থাকতে ভালোবাসি। ‘ডাক্তার কাকু’ সিনেমাটি সেই চেনা শিকড়ের গল্প বলেছে। আমার ব্যক্তিগত জীবনেও এমন একাধিক ‘ডাক্তার কাকু’ দেখার সৌভাগ্য হয়েছে, তাই গল্পটি শোনার পর আর না করার কোনো সুযোগ ছিল না।"

উল্লেখ্য, সিনেমাটি গতকাল শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে সফলভাবে মুক্তি পেলেও এর মূল নির্মাণপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির ঠিক পূর্বে। নানা আইনি ও আনুষঙ্গিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর অবশেষে প্রসেনজিৎ-ঋদ্ধির এই সামাজিক থ্রিলারধর্মী নাটকীয় ছবিটি বড় পর্দায় আসার মুখ দেখল।