১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:২৫:২৮ অপরাহ্ন


চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনায় উত্তেজনা—চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সভা
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৫-০৬ ১৬:০১:৪৩
চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনায় উত্তেজনা—চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সভা সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সভা। ছবি: সময় সংবাদ


চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার মূল আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। দ্রুত বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা এই কর্মসূচি পালন করেন। সাংবাদিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত সভায় অংশগ্রহণকারীরা ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

 হামলার পটভূমি

গত ৩০ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা শহরের বাতেনখাঁ মোড় এলাকায় দুই সাংবাদিক—তারেক রহমান (চ্যানেল ওয়ান, আমার দেশ) ও তারেক আজিজ (মাই টিভি)—এর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। হামলায় তারা গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী রাব্বি ও সোহেল রানা জিনজিরসহ ৮–১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 মূল আসামিরা এখনো পলাতক

সাংবাদিক নেতাদের অভিযোগ, ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও প্রধান দুই আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাদের দাবি, রাব্বি নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে একাধিক মামলার আসামি হলেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তাদের আরও অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘সোর্স’ হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তির কারণে আসামিরা সুবিধা পাচ্ছে এবং গ্রেপ্তার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

 কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সভায় বক্তারা বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার না করা হলে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন সাংবাদিকরা। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

 পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, মামলায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কাউকে ‘সোর্স’ হিসেবে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় এবং পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

হামলার ঘটনায় পুরো জেলায় সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ বিরাজ করছে। দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।