১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:২৭:৪২ অপরাহ্ন


রাজধানীর গুলশান, ধানমণ্ডিসহ প্রধান লেকগুলোর দূষণ রোধে কঠোর নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর
সচিবালয় প্রতিবেদক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-১৭ ১৬:২৬:০৭
রাজধানীর গুলশান, ধানমণ্ডিসহ প্রধান লেকগুলোর দূষণ রোধে কঠোর নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর ছবি: সংগৃহীত


পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, এসটিপি স্থাপন ও ১০টি যান্ত্রিক নৌকা দিয়ে ভাসমান বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ; সচিবালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

       রাজধানী ঢাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং নগরবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমণ্ডি লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত ও দৃশ্যমান কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লেকগুলোতে সব ধরনের গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ অবিলম্বে বন্ধ করা, নিয়মিত বর্জ্য ও স্লাজ অপসারণ, ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন।

বৈঠকে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার লেকগুলোর বর্তমান নাজুক অবস্থা, দূষণের প্রধান উৎসসমূহ এবং পরিবেশগত সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে ধানমণ্ডি লেকের সার্বিক সংস্কার, তলদেশের ক্ষতিকর স্লাজ অপসারণ এবং চলমান পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে উত্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, গুলশান লেকে অনিয়ন্ত্রিত পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের উৎস ও মাধ্যম হিসেবে ইতোমধ্যে ৬টি প্রাইমারি ও ৬টি সেকেন্ডারি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব উৎস দিয়ে প্রতিনিয়ত বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দূষিত পানি লেকে গিয়ে পড়ছে। এ সংকট নিরসনে গঠিত কারিগরি কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বেশ কিছু সুপারিশমালা উপস্থাপন করে।

লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বজায় রাখতে এবং দূষণ রোধে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের সব ধরনের অবৈধ পথ বন্ধ করা, ভবনভিত্তিক এসটিপি স্থাপন এবং বিদ্যমান স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের বিস্তারিত কারিগরি জরিপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গুলশান-বনানী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট ক্যাচমেন্ট এরিয়া তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়।

লেকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও বেগবান করতে ভাসমান বর্জ্য অপসারণে বর্তমানে নিয়োজিত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা মাত্র ২টি থেকে বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার সরাসরি নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি ভাসমান এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে লেকের তলদেশে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা বিষাক্ত স্লাজ অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন তিনি।

‘ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী প্রযোজ্য সকল ভবন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয় বৈঠকে। বাসাবাড়ি ও অনান্য প্রতিষ্ঠানের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন বা লেকের সংযোগে যুক্ত রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করে অবৈধ সংযোগগুলো স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করতে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে (ডিএনসিসি) যৌথভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া লেকের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে আধুনিক ‘এরেটর’ স্থাপন, দুর্গন্ধ দূরীকরণে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্যানিটেশন মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর নিত্যদিনের সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে ৪২ জন জনবলের সমন্বয়ে গঠিত ৫টি বিশেষ টিম ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।

উচ্চপর্যায়ের এই পর্যালোচনা বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।