১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:৪৯:৩৪ অপরাহ্ন


মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে নতুন মোড়কে পুরোনো সিন্ডিকেট!
জাতীয় ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-১৬ ১৩:২০:৪৮
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে নতুন মোড়কে পুরোনো সিন্ডিকেট!


অনভিজ্ঞ ও পাচারে অভিযুক্ত ২৫ মূল এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে বাজার; অভিবাসন ব্যয় চরম বাড়ার শঙ্কায় শ্রমিকরা

          দীর্ঘ জটিলতা ও বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া খোলার তোড়জোড় শুরু হলেও অনিয়ম ও দুর্নীতির পুরোনো ছায়া থেকে বের হতে পারছে না এই খাত। পূর্বের বিতর্কিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ব্যবস্থার মতোই এবারও নতুন মোড়কে ২৫টি ‘মূল রিক্রুটিং এজেন্সি’ এবং তাদের অধীনে ২৫০টি ‘সহযোগী এজেন্সি’ (অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি)-কে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনুমোদিত নতুন তালিকাতেও পুরোনো প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের স্পষ্ট প্রভাব রয়েছে, যার ফলে অভিবাসন ব্যয় ফের কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ শ্রমিকদের ভোগান্তি বাড়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, নির্বাচিত ২৫টি মূল এজেন্সির অধিকাংশই মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া ১০টি শর্তের কোনোটিই সঠিকভাবে পূরণ করেনি। ৫ বছরের অভিজ্ঞতা ও ন্যূনতম ৩ হাজার কর্মী পাঠানোর শর্ত থাকলেও তালিকায় স্থান পেয়েছে মাত্র চার বছর বয়সী ও সর্বসাকুল্যে ২০০ থেকে ৪০০ জন কর্মী পাঠানো অত্যন্ত অনভিজ্ঞ এজেন্সি। অনুমোদিত ২৫টির মধ্যে ১৭টি এজেন্সিরই মালয়েশিয়ায় পূর্বে কোনো কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতাই ছিল না।

এমনকি মানব পাচার ও আর্থিক অনিয়মে জড়িত না থাকার স্পষ্ট শর্ত থাকলেও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভুয়া পাসপোর্টে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী পাচার মামলার আসামি অন্তত চারটি এজেন্সি—রিফা ইন্টারন্যাশনাল, জেনারেল ট্রেডিং, গডনেস সার্ভিস লিমিটেড ও ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে এবার মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

হিসাবমতে, দেশে আড়াই হাজারের বেশি বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি থাকলেও বিগত ২০১৬ ও ২০২২ সালের সিন্ডিকেটের মতোই এবারও সাধারণ এজেন্সিগুলোকে বাদ দিয়ে মাত্র ২৫টি মূল এজেন্সির মাধ্যমে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (FWCMS) চাহিদাপত্র প্রক্রিয়াকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে সহযোগী এজেন্সিগুলোকে মূল এজেন্সিকে বিপুল অংকের প্রসেস ফি দিতে হবে। এর পেছনে পূর্বে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত মালয়েশিয়ান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘বেস্টিনেট’ ও ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক রুহুল আমিন স্বপন চক্রের পরোক্ষ হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ১০টি এবং ২০২২ সালে ১০০টি এজেন্সির সিন্ডিকেটের কারণে নির্ধারিত ফি ৩৩ হাজার টাকা হলেও কর্মীদের কাছ থেকে গড়ে ২ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের মুখে গত ২০২৪ সালের ১ জুন পুনরায় বন্ধ হয়ে যায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। এবার নতুন করে একই কৌশলে অনভিজ্ঞ ও বিতর্কিত এজেন্সিগুলোকে সুযোগ দেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।