১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:৫৮:৩৪ অপরাহ্ন


‘যেকোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে’: ইসরায়েলকে সরাসরি যুদ্ধের চরম বার্তা দিলেন খামেনি!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৮ ১৮:১৭:৪৭
‘যেকোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে’: ইসরায়েলকে সরাসরি যুদ্ধের চরম বার্তা দিলেন খামেনি! ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: সংগৃহীত


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা মিত্রদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। আজ মঙ্গলবার তেহরানে আয়োজিত এক বিশেষ সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো ধরনের আঘাতের পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং এর জন্য হামলাকারীকে চরম মূল্য দিতে হবে।


আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘দাঁতভাঙা’ জবাবের ঘোষণা

ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের এই অনুষ্ঠানে খামেনি বলেন, “আমরা যুদ্ধের সূচনা করতে চাই না, তবে আমাদের ভূখণ্ড বা স্বার্থে কোনো আঘাত এলে এক সেকেন্ডও দেরি না করে পাল্টা হামলা চালানো হবে।” তিনি সরাসরি ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য যে ‘জায়নবাদী শক্তি’ কাজ করছে, তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং বিপ্লবী গার্ড (IRGC) পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

সামরিক শক্তির মহড়া

আজকের এই কুচকাওয়াজে ইরান তাদের অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি এবং দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে। খামেনি তাঁর ভাষণে জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই বক্তব্য মূলত ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হুমকির সরাসরি প্রতিক্রিয়া এবং এটি যুদ্ধের আবহকে আরও ঘনীভূত করেছে।

বিশ্বনেতাদের উদ্বেগ ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট

খামেনির এই বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে এই হুমকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। অন্যদিকে, রাশিয়া ও চীন উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানালেও ইরানের সার্বভৌম অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

বিশ্লেষক মন্তব্য

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই সরাসরি হুঁশিয়ারি প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে চলমান প্রক্সি যুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে। তেলের বাজারে এই উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি এখন বড় ধরণের পরীক্ষার মুখে।