১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০৪:০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন


কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠাই জনগণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-১৫ ১৭:১১:৩৬
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠাই জনগণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান I ছবি: সংগৃহীত


আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাণী; ‘সবার আগে বাংলাদেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রত্যয়ে কাজ করার আহ্বান

      জনগণের সঙ্গে অব্যাহত সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই তাঁদের মৌলিক স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই এই মুহূর্তে জনগণের প্রতি আমাদের সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। আর সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ‘সবার আগে বাংলাদেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রত্যয়ে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।"

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস (১৫ সেপ্টেম্বর) উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার প্রদত্ত এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্বব্যাপী এবারের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘রেইজিং হ্যান্ডস অ্যান্ড ভয়েসেস—ফস্টারিং এজেন্সি অ্যান্ড ওনারশিপ থ্রু ডেলিবারেটিভ ডেমোক্র্যাসি’ (Deliberative Democracy)।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং মানুষের সকল গণতান্ত্রিক ও মানবিক অধিকারের প্রতি তাঁর সরকারের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

গণতন্ত্রের মূল চেতনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, "গণতন্ত্রের মূল দর্শনই হচ্ছে রাষ্ট্র ও সমাজে প্রতিটি মানুষের বাক্ ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা। গণতান্ত্রিক অধিকারের অর্থ কেবল ভোটের অধিকার প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং গণতন্ত্রকে টেকসই ও সুদৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সেই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার দেশের মানুষের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার পুনর্প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞবদ্ধ।"

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল এবং গণতন্ত্রের চেতনাকে ধ্বংস করা হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেছিলেন এবং মানুষের বাক্, ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে পুনরায় একদলীয় ও শাসন-শোষণ কায়েম করা হয়, যা ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবসান ঘটেছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, সরকারে থাকা কিংবা বিরোধী দলে—সব অবস্থাতেই বিএনপি সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে অবিচল অবস্থান নিয়েছে। ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করেছে।

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ভিশন ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, "আমরা এমন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে আগামী প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদার রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ন্যায়পরায়ণতা শতভাগ নিশ্চিত হবে।" দিবসটিতে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্বের সকল নির্যাতিত ও গণতন্ত্রকামী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।