১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:৩১:৩২ অপরাহ্ন


টয়লেটের ঢাকনা খোলা রেখে ফ্লাশ করেন? সাবধান!
স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-১৫ ১৪:২৪:০১
টয়লেটের ঢাকনা খোলা রেখে ফ্লাশ করেন? সাবধান! ছবি: সংগৃহীত


ঢাকনা না নামিয়ে ফ্লাশ করলে ছড়ায় ক্ষতিকর ‘টয়লেট প্লুম’; টুথব্রাশ দূরে রাখা ও নিয়মিত হাত ধোয়ার জরুরি পরামর্শ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের

      টয়লেট ব্যবহারের পর ঢাকনা খোলা রেখেই ফ্লাশ করার অভ্যাস থাকলে এখনই সাবধান হওয়া জরুরি। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও, ফ্লাশ করার সময় টয়লেট থেকে কেবল পানিই নেমে যায় না, বরং এর ভেতর থেকে মুহূর্তে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে খালি চোখে দেখা যায় না এমন কোটি কোটি অদৃশ্য জীবাণু ও ক্ষতিকর ভাইরাস। বিজ্ঞানীদের মতে, এসব সূক্ষ্ম কণা টয়লেটের আশপাশের বাতাসে বেশ কিছুক্ষণ পর্যন্ত ভেসে থাকতে পারে।

বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ফ্লাশের প্রচণ্ড চাপে তৈরি হওয়া এই অদৃশ্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকে বলা হয় ‘টয়লেট প্লুম’ (Toilet Plume)। বিভিন্ন অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology) গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, ফ্লাশের সময় ঢাকনা খোলা থাকলে বাটি থেকে তীব্র বেগে জীবাণু ও ক্ষতিকর ভাইরাসযুক্ত পানির ফোটা বা কণা চারপাশের পরিবেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ঢাকনা বন্ধ রেখে ফ্লাশ করার সুফল সম্পর্কে একাধিক স্বাস্থ্য গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্লাশ করার ঠিক আগে টয়লেটের ঢাকনা নামিয়ে রাখলে বাতাসে জীবাণুযুক্ত কণা ছড়িয়ে পড়ার হার প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায়। যদিও এটি শতভাগ কণা ছড়ানো বন্ধ করে না, তবে ঝুঁকির মাত্রা অর্ধেকের বেশি কমিয়ে দেয়।

টয়লেট ব্যবহার না করলেও ঢাকনা বন্ধ রাখা উচিত কি না—এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট উত্তর ‘হ্যাঁ’। টয়লেটের বাটিতে জমিয়ে রাখা পানিতে স্বাভাবিকভাবেই ইশেরিশিয়া কোলাই (E. coli), ক্লস্ট্রিডিয়াম ডিফিসিল এবং নরোভাইরাসের (Norovirus) মতো অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস অবস্থান করে।

বিশেষ করে পরিবারে কেউ বমি বা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা ও ফ্লাশ করার নিয়মে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC) নরোভাইরাসের মতো মারাত্মক সংক্রামক ভাইরাস ঠেকাতে টয়লেট ও সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করা সারফেসগুলো নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করার তাগিদ দিয়েছে।

এছাড়াও টয়লেটের ঢাকনা খোলা রাখলে বাথরুমের ভেতরের আর্দ্রতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে বাড়িতে কুকুর বা বিড়ালের মতো পোষা প্রাণী থাকলে তারা ভুলবশত টয়লেটের পানি পান করে ফেলতে পারে, যা পরবর্তীতে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

জীবাণুর সংক্রমণ এড়াতে বিশেষজ্ঞদের ৬টি জরুরি নির্দেশনা:

  • ফ্লাশের আগে অবশ্যই ঢাকনা বন্ধ করা: ফ্লাশ বাটনে চাপ দেওয়ার ঠিক আগে ঢাকনা নামিয়ে দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

  • নিয়মিত টয়লেট পরিষ্কার রাখা: টয়লেটের ভেতরের বাটি এবং আশপাশের অংশ উপযুক্ত জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত।

  • বেশি স্পর্শ করা স্থান জীবাণুমুক্ত করা: বাথরুমের দরজার হাতল, পানির কল, বেসিন এবং টয়লেটের সিট কভার সাবান বা ডিটেন্ট দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।

  • অসুস্থতায় বিশেষ সতর্কতা: পরিবারে কেউ গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস বা নরোভাইরাসে আক্রান্ত হলে ব্যবহার পরপরই টয়লেট জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

  • নিয়ম মেনে হাত ধোয়া: টয়লেট ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।

  • টুথব্রাশ দূরে রাখা: টয়লেট বা কমোডের একদম কাছাকাছি টুথব্রাশ রাখা মারাত্মক বিপজ্জনক। ফ্লাশের জীবাণু যেন ব্রাশের সংস্পর্শে আসতে না পারে, তাই এটি নিরাপদ দূরত্বে ও ঢেকে রাখতে হবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টয়লেটের ঢাকনা কেবল সৌন্দর্য বর্ধনের বস্তু নয়। ফ্লাশ করার আগে মাত্র দুই সেকেন্ড সময় নিয়ে ঢাকনাটি বন্ধ করার সামান্য একটি অভ্যাস পুরো পরিবারকে বড় ধরনের সংক্রমণ ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগবালাই থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।

(সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র- CDC, আন্তর্জাতিক অণুজীববিজ্ঞান সাময়িকী ও স্বাস্থ্য গবেষণা)