১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:২৫:৫৫ অপরাহ্ন


যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৩ ১৭:৩৫:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী ছবি: সংগৃহীত


যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) অধ্যয়নরত বাংলাদেশের দুই ডক্টরাল (পিএইচডি) শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলেন— ২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন ও নাহিদা এস. বৃষ্টি। গত বৃহস্পতিবার থেকে তাদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের খবরটি উঠে এসেছে।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জামিল লিমন ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি করছেন। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তাকে শেষবার তার বাসায় দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টিকে ওই দিন সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস বিল্ডিংয়ে শেষবার দেখা যায়। অদ্ভুত বিষয় হলো, বৃষ্টি তার ল্যাবে ল্যাপটপ, আইপ্যাড ও খাবারের বক্স রেখে কেবল পার্স ও মোবাইল নিয়ে বেরিয়ে যান। লিমনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে; তিনি মোবাইল ও মানিব্যাগ নিলেও তার পাসপোর্ট বাসায় পড়ে ছিল।

নিখোঁজ লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ জানান, লিমন ও বৃষ্টির মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা একসঙ্গে থাকার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্তের মতে, বর্তমানে তাদের মধ্যে তেমন সক্রিয় সম্পর্ক ছিল না। পুলিশ লিমনের ফোনের সর্বশেষ অবস্থান বৃহস্পতিবার সকালে তার বাসার পাশে এবং বৃষ্টির ফোনের অবস্থান বিকেলে ক্যাম্পাস এলাকায় শনাক্ত করতে পেরেছে। সিসিটিভি ফুটেজে এখনো অস্বাভাবিক কিছু মেলেনি।

শুক্রবার বিকেলে এক পারিবারিক বন্ধু তাদের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশে অভিযোগ জানালে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু হয়। দুই শিক্ষার্থীর পরিবারই তাদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। এদিকে, ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে নিয়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই-এর (FBI) সম্পৃক্ততা চেয়েছে। অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) নিশ্চিত করেছে যে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী তাদের হেফাজতে নেই। হঠাৎ এমন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় কোনো বিশেষ বিপদ বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন।