সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী; অনাগত সন্তানের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন সোহিনী-শোভন দম্পতি
একসময় দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সার্বিক পরিকাঠামোর দৈন দশা দেখে চরম সংশয় প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘কোন দেশে মা হব?’ মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে একসময় মনে ভিড় করেছিল ভয় ও নানা জটিল ভাবনা। তবে সেই সব অনিশ্চয়তাকে পেছনে ফেলে জীবনের নতুন সুন্দর অধ্যায়ে পা রেখেছেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সোহিনী সরকার। বর্তমানে তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা, কোল আলো করে আসতে যাওয়া ছোট্ট অতিথির আগমনের দিন গুনছেন এই তারকা।
সম্প্রতি ভারতীয় এক গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের এই শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের গল্প শুনিয়েছেন সোহিনী। তিনি জানান, অন্তরের গভীরে মা হওয়ার প্রবল ইচ্ছা তাঁর সবসময়ই ছিল। তবে দেশের পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিবেশ নিয়ে ভয় কাজ করায় দ্বিধায় ছিলেন। পুরোনো সেই ভয় কাটিয়ে ওঠাকে নিয়ে ইতিবাচক কণ্ঠে অভিনেত্রী বলেন, "এখন আর অত ভাবি না; মনে হয়েছে আমি সবটা সুন্দরভাবে সামলে নিতে পারব।"
উল্লেখ্য, বিগত ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঘনিষ্ঠ স্বজনদের উপস্থিতিতে সংগীতশিল্পী শোভন গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সোহিনী সরকার। আর গত জুলাইয়ে নিজেদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীতে অনুরাগীদের জানান জীবনের প্রথম সন্তান আসার নতুন এই বার্তা। বর্তমানে ভারী কাজ ও শুটিং থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে বাড়িতে বিশ্রামেই সময় পার করছেন তিনি। নিয়মিত ঘুম, পছন্দের সিনেমা-ওয়েব সিরিজ দেখা আর অনাগত সন্তানকে ঘিরেই কাটছে তাঁর দিনরাত্রি।
তবে গর্ভাবস্থার প্রাথমিক দিনগুলোতে কিন্তু কাজ থামিয়ে রাখেননি সোহিনী। পূর্ণ গর্ভবতী অবস্থাতেই ‘বহুরূপী’ চলচ্চিত্রের পুরো দৃশ্যধারণের কাজ শেষ করেছেন তিনি। এমনকি প্রায় ছয় মাসের গর্ভবতী থাকা অবস্থাতেও সফলভাবে অভিনয় করেছেন ‘অজেয়া’ ওয়েব সিরিজে। গর্ভাবস্থাকে রোগ বা ‘অসুস্থতা’ হিসেবে দেখার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুরুতে কিছুটা শারীরিক ক্লান্তি ও এনার্জির ঘাটতি থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শে প্রথম তিন মাস নিজের কাজের চাকা থামাননি।
শুটিং সেটে ও ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী শোভন গঙ্গোপাধ্যায়ের যত্নশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন সোহিনী। আউটডোর শুটিংয়ের সময় স্ত্রীকে ছায়ার মতো আগলে রাখা থেকে শুরু করে নিজ হাতে খাবার তৈরি করে খাইয়েছেন শোভন। রসিকতা করে সোহিনী জানান, শোভনের এত বেশি যত্ন আর খেয়াল রাখা দেখে মনে হতো যেন তিনি নিজেই অন্তঃসত্ত্বা!
একসময় মাতৃত্বের মতো সংবেদনশীল অধ্যায়কে ঘিরে মনে নানা প্রশ্ন ও দ্বিধা থাকলেও, এখন সে জায়গায় স্থান করে নিয়েছে নতুন এক বর্ণিল স্বপ্ন। অনাগত সন্তান যেন সুস্থভাবে পৃথিবীতে এসে একজন ভালো ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে—আপাতত সোহিনী ও শোভন দম্পতির মনে শুধুই এই প্রত্যাশা।