১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:০৩:৪৫ অপরাহ্ন


বাবা ট্রাক্টর কিনলে হয়তো অভিনেতা হতেন না পঙ্কজ!
বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-০৫ ১৮:০৬:৫৫
বাবা ট্রাক্টর কিনলে হয়তো অভিনেতা হতেন না পঙ্কজ! ছবি: সংগৃহীত


পাটনার হোটেলের রান্নাঘর থেকে বি টাউনের 'কালীন ভাইয়া'; ৫০-এ পা দিলেন বরেণ্য অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠি

        পাটনার একটি অভিজাত হোটেলের রান্নাঘরে একসময় বাবুর্চির সহকারী হিসেবে টানা কাজ করতেন তিনি। কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকে পার করতেন দীর্ঘ সময়। বহু বছর পর সেই একই হোটেলে যখন তিনি অতিথি হয়ে ফিরলেন, তখন তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বয়ং মহাব্যবস্থাপক। জীবনের চরম অম্ল-মধুর সত্যের মুখোমুখি হওয়া সেই মানুষটি আর কেউ নন—হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠি।

আজ ৫ সেপ্টেম্বর ৫০ বছরে পা দিলেন ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’, ‘নিউটন’, ‘মাসান’, ‘মিমি’, ‘স্ত্রী’ ও ‘মির্জাপুর’-এর মতো কালজয়ী প্রজেক্টের এই অভিনেতা। বিশেষ এই দিনে জন্মদিনের ঠিক আগের দিনই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তাঁর বহুল আলোচিত নতুন সিনেমা ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’।

একটি ট্রাক্টর না পাওয়ার গল্প ও জীবনের মোড় পরিবর্তন

কৃষক পরিবারের সন্তান পঙ্কজের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল একটি অপূর্ণ স্বপ্ন। শৈশবে ভেবেছিলেন বাবা একটি ট্রাক্টর কিনবেন এবং তিনি পড়াশোনা শেষে গ্রামে খেতখামারের কাজ করে জীবন কাটিয়ে দেবেন। তবে আর্থিক অসংগতির কারণে বাবার পক্ষে সেই স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পরবর্তীতে বিহারের গোপালগঞ্জের গ্রাম ছেড়ে পাটনায় আসেন পঙ্কজ। তবে সেখানে গিয়ে জড়িয়ে পড়েন ছাত্ররাজনীতি ও থিয়েটারের জগতে। মঞ্চ আর অভিনয়ের তীব্র আকর্ষণ তাঁর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ভুলিয়ে দেয়। মজার ছলে তিনি প্রায়ই বলেন, "‘ডক্টর’ হতে এসে আমি ‘অ্যাক্টর’ হয়ে গেছি।"

পঙ্কজের উপলব্ধি—সেদিন বাবা ট্রাক্টরটি কিনতে পারলে হয়তো তিনি গ্রামেই থেকে যেতেন; হিন্দি সিনেমা হয়তো পেত না কালীন ভাইয়া কিংবা সুলতান কুরেশির মতো কালজয়ী চরিত্রগুলোকে।

কঠিন সংগ্রাম, প্রত্যাখ্যান ও সাফল্য

অভিনয়ের নেশায় স্নাতকের পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া পঙ্কজ হোটেল ব্যবস্থাপনার কোর্স করে বাবুর্চির কাজ নেন, যাতে রাতে থিয়েটার করা যায়। পরবর্তীতে অভিনয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য ‘ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা’য় (এনএসডি) আবেদনের সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে টানা দুইবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তৃতীয়বারের চেষ্টায় সুযোগ পান এই মর্যাদাপূর্ণ সংস্থায়।

২০০৪ সালে এনএসডি থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্ত্রী মৃদুলা ত্রিপাঠিকে নিয়ে মুম্বাই পাড়ি জমান তিনি। তবে মুম্বাইয়ের পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। দিনের পর দিন অডিশনে গিয়ে ‘নট ফিট’ তকমা শুনতে হয়েছে তাঁকে।

অবশেষে পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’-এ সুলতান কুরেশি চরিত্রটি তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর ‘মাসান’, ‘নিউটন’, ‘বরেলি কি বরফি’, ‘মিমি’, ‘ওএমজি ২’ এবং ‘স্ত্রী’ সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজেকে ইন্ডাস্ট্রির অপরিহার্য অংশে পরিণত করেন। আর ‘মির্জাপুর’-এর ‘কালীন ভাইয়া’ চরিত্রটি তাঁকে এনে দেয় বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা।

ব্যক্তিগত দর্শন ও অভিনয়ের নীতি

বহু সফল সিনেমা উপহার দিলেও পঙ্কজ ত্রিপাঠি নিজের সিনেমা খুব একটা দেখেন না। মনিটরে নিজের শট দেখা কিংবা মেকআপের পর আয়নায় চেহারা দেখাও পছন্দ করেন না তিনি; পরিচালকের সন্তুষ্টিকেই চূড়ান্ত মনে করেন। জীবনের সবচেয়ে বড় সমালোচক হিসেবে ভাবেন স্ত্রী মৃদুলাকে।

সম্প্রতি ১৫ বছর পর স্ত্রী মৃদুলার প্রযোজিত গীতিনাট্য ‘লা-ইলাজ’-এর মাধ্যমে থিয়েটারের মঞ্চেও ফিরেছেন তিনি। যেখানে তাঁর মেয়ে আশি ত্রিপাঠিরও অভিষেক হয়েছে। পঙ্কজ মনে করেন, থিয়েটার কেবল অভিনয় শেখায় না, বরং একজন ভালো মানুষ হতে সাহায্য করে।

আজ এত সাফল্য ও খ্যাতির চূড়ায় অবস্থান করেও নিজেকে সাধারণ এক অভিনয়শিল্পী ভাবতেই ভালোবাসেন ৫০ বছরে পা রাখা এই তারকা।