১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:৫৭:৫৪ পূর্বাহ্ন


মির্জা ফখরুলই বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী; দল ও সরকারের তিন পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি কারা
অনলাইন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৮-১৩ ১৩:৩১:০৯
মির্জা ফখরুলই বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী; দল ও সরকারের তিন পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি কারা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর I ছবি: সংগৃহীত


তারেক রহমানের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত; ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের পদে রুহুল কবির রিজভী ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে সালাহউদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায়

     বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে দলটির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাথে বৈঠক করে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন। আজ দুপুরের পরই নির্বাচন কমিশনে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই যে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হতে যাচ্ছেন, তা প্রায় নিশ্চিত। তবে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদ ফাঁকা হয়ে যাবে। দলীয় ও সরকারি সূত্রমতে, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের আগেই তিনি স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব এবং দলের মহাসচিবের পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করলে সংসদ সচিবালয় তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করবে এবং নিয়ম অনুযায়ী সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মহাসচিবের পদে রুহুল কবির রিজভী ও মন্ত্রণালয়ে রদবদলের গুঞ্জন

দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিএনপির মহাসচিবের গুরুদায়িত্ব পালন করে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১১ সালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব পদে ভূষিত হন। বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং তারেক রহমানের লন্ডনে অবস্থানকালে বিগত সরকারের দমন-পীড়নের মুখে ছয়বার কারাবরণ করেও তিনি রাজপথে দল পরিচালনা করে এক গ্রহণযোগ্য শীর্ষ নেতায় পরিণত হন।

এখন তিনি রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত হলে দল ও সরকারের পদগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে:

  • ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব: বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, জাতীয় কাউন্সিলের পূর্বে আপাতত একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করা ও মন্ত্রিসভায় না থাকায় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকেই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হতে পারে বলে জোরালো আলোচনা রয়েছে।

  • স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়: মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করলে তাঁর স্থানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হতে পারে।

পদ এবং শূন্য হওয়ার প্রেক্ষাপটসম্ভাব্য উত্তরসূরি / পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ
রাষ্ট্রপতি প্রার্থীমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব (বিএনপি)রুহুল কবির রিজভী (জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব)
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সালাহউদ্দিন আহমদ (বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)
ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনশূন্য ঘোষণা সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক উপনির্বাচন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ও আইনগত সমীকরণ

আজ বিকেল চারটার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারিত রয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট সংসদের সভাকক্ষে রাষ্ট্রপতি পদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করায় দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হতে যাচ্ছে। তবে সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন থাকায় মির্জা ফখরুলের বিজয় কেবল সময়ের ব্যাপার।

সংবিধানের ৫০(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ৫ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং ৫১ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণের সাথে সাথে তাঁর জাতীয় সংসদের আসনটি শূন্য হয়ে যাবে। আগামী ২০ আগস্টের নির্বাচনের পরই দেশে নতুন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির নতুন সাংগঠনিক কাঠামোর আত্মপ্রকাশ ঘটবে।