‘আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে, আজ সে কলঙ্কমুক্ত হলো’; অঝোরে কেঁদে বিচার চাইলেন নীলা চৌধুরী ও পরিবার
বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলঅভিনেতা মোহাম্মদ আশরাফুল হক ওরফে ডন গ্রেপ্তার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন প্রয়াত এই চিত্রনায়কের মা নীলা চৌধুরী ও তাঁর পরিবার। দীর্ঘ ২৯ বছরের ন্যায়বিচারের অপেক্ষার মাঝে এই গ্রেপ্তারের সংবাদে একদিকে যেমন কান্না ধরে রাখতে পারেননি সালমান শাহর মা, অন্যদিকে স্বস্তি প্রকাশ করে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানিয়েছেন মামলার বাদী ও সালমানের মামা।
গত রবিবার (৯ আগস্ট) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হন ডন। পরবর্তীতে রমনা থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
‘আমার ছেলেকে বেয়াদব বানাতে চেয়েছিল ডন’: অঝোরে কেঁদে নীলা চৌধুরী
ডনের গ্রেপ্তারের পর সংবাদমাধ্যম ‘স্টার নিউজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘদিনের চাপা কষ্ট, ক্ষোভ ও ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী।
- ছেলেকে কলঙ্কমুক্ত করার অনুভূতি: কেঁদে কেঁদে নীলা চৌধুরী বলেন, “আমার বুকের মধ্যে সালমান শাহ ছিল, আছে, থাকবে। আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। আজ আমার ছেলেকে কলঙ্কমুক্ত করা হলো।”
- অপপ্রচারের প্রতিবাদ: ডনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সালমান শাহ ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে মিথ্যা ও অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “ডন আমাকে অপমান করেছে, আমার ছেলের নামে মিথ্যা কথা বলে তাকে বেয়াদব বানিয়েছে। সে মিথ্যা দাবি করেছিল যে আমার ছেলে নাকি আমাকে মারতে দেখেছে! সে তো আমার ঘরে কোনোদিন যায়ই নাই, আমার বিল্ডিংয়ের ওপর কোনোদিন ওঠেই নাই।”
- সরকার ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা: বর্তমান সরকারের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ এবার বিচার হবেই। আল্লাহর কাছে ও বর্তমান সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আর সারা বাংলাদেশের সাংবাদিক, পুলিশ অফিসার এবং এই কোটি কোটি ভক্ত বাচ্চাদের ধন্যবাদ—তারা না থাকলে আজও এভাবে কেউ কাঁদত না।” একই সাথে সালমানের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে আত্মহত্যা করা ভক্তদের মৃত্যুর বিচারও দাবি করেন তিনি।
‘জুতা এগিয়ে দিত যে ডন, মৃত্যুর পর কেন সিলেট গেল না?’: মামার প্রশ্ন
অন্যদিকে সালমান শাহর মামা ও হত্যা মামলার বাদী চলচ্চিত্র পরিচালক আলমগীর হোসেন কুমকুম এই গ্রেপ্তারে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ ও বাংলাদেশ সরকারের সুযোগ্য পুলিশ বাহিনীকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আর একজন ছাড়া প্রায় সব আসামিই এখন আইনের আওতায়।”
| ডনের গ্রেপ্তার ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া | বিস্তারিত তথ্য |
| গ্রেপ্তারকৃত আসামি | মোহাম্মদ আশরাফুল হক ওরফে ডন |
| আটকের স্থান ও প্রেক্ষাপট | শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (বিদেশযাত্রার মুহূর্তে) |
| সালমানের মায়ের প্রতিক্রিয়া | আবেগাপ্লুত ও বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বিচার পাওয়ার দৃঢ় আশা ব্যক্ত |
| সালমানের মামার বক্তব্য | ‘আলহামদুলিল্লাহ’, দীর্ঘদিনের প্রমাণ সংগ্রহের পর পুলিশের সঠিক পদক্ষেপ |
ডনের সঙ্গে সালমান শাহর অতীতের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় ডন সালমানের ব্যক্তিগত সহকারী বা মাস্টারের কাজ করতেন—জুতা পিছিয়ে দেওয়া, শার্টের বোতাম কিংবা টাই ঠিক করে দেওয়ার মতো কাজ করতেন।
তবে মৃত্যুর পর ডনের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “সালমানের জানাজায় ডন আসেনি, মানলাম সেদিন দেশজুড়ে হরতাল ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে একবারের জন্যও কি সে সিলেটে আমাদের বাসায় গিয়ে দেখা করতে পারত না? শাবনূর তো গিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু ডন কেন যোগাযোগ করল না?”
ডনের পূর্ববর্তী নির্দোষ দাবি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, দীর্ঘ সময় দেশে অবস্থান করলেই কেউ ধোয়া তুলসী পাতা হয়ে যায় না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রাহের পরই তাকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করেছে।