১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:৪৫:২৭ অপরাহ্ন


জুলাইয়ের শহীদ ও আহত ১০ পরিবারের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৮-০৮ ১৭:৪৮:৩৪
জুলাইয়ের শহীদ ও আহত ১০ পরিবারের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত


মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪—সকল আত্মত্যাগের উদ্দেশ্য একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়া: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

      ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সম্মানজনক স্থায়ী কর্মসংস্থানের অংশ হিসেবে তাঁদের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে আয়োজিত এক ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানে তিনি নিজ হাতে এই নিয়োগপত্র হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিয়োগপত্র প্রাপ্ত শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যবৃন্দ


উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহত পরিবারের প্রতিনিধিদের হাতে সরাসরি নিয়োগপত্র তুলে দেন, তাঁদের সঙ্গে একান্ত কথা বলেন এবং পরিবারের বর্তমান অবস্থা ও শারীরিক চিকিৎসা সংক্রান্ত সার্বিক খোঁজখবর নেন।

  • শহীদ পরিবারের সদস্য (৮ জন): শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী।

  • গুরুতর আহতদের পরিবার (২ জন): আন্দোলন চলাকালে গুরুতর আহত মো. আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তার।

‘সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে এগিয়ে নিতে হবে’


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের মানুষের বিভিন্ন পর্যায়ের আত্মত্যাগের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “যাঁদের আমরা হারিয়েছি, যাঁরা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটাই লক্ষ্য ছিল—একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ শান্তিতে ও মানসম্মতভাবে বসবাস করতে পারবে।”

তেজগাঁও কার্যালয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিত্ববৃন্দবিবরণ ও ভূমিকা
প্রধান অতিথিপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সাক্ষাৎকারী বিশেষ অতিথিসম্প্রতি চাকরিপ্রাপ্ত শহীদ আব্দুল্লাহ বীন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা ও আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্না
উপস্থিত কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিপ্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন
রাষ্ট্রের নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাস্তবতার নিরিখে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা ব্যক্তি হিসেবে কী পেলাম তা বড় কথা নয়, বরং দেশকে কী দিতে পারলাম সেটাই মুখ্য। এই লক্ষ্য নিয়ে এগোলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”

নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক ও সম্মানজনক উদ্যোগের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।