১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:০৫:১৮ অপরাহ্ন


দ্রুত চুক্তির আশায় ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৮-০২ ১৫:২৪:০২
দ্রুত চুক্তির আশায় ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প! ছবি: সংগৃহীত


হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া ও পারমাণবিক হুমকি অবসানের শর্তে সাময়িক স্বস্তি; মার্কিন পদক্ষেপে রাজি ইসরায়েলও


      চরম উত্তেজনার পারদ ও সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে অবশেষে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্রুত একটি আন্তর্জাতিক শান্তিকচুক্তির রূপরেখা বা প্রধান শর্তাবলিতে পৌঁছানোর শর্তে এই হামলা সাময়িকভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

শনিবার ও রোববার (২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, সংঘাত এড়াতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মিত্র দেশ এবং স্বয়ং ইরানের পক্ষ থেকেও সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রাখার বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।


‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ থেকে সমঝোতার টেবিলে

এর আগে গত শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, যেকোনো মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দেখা যায়নি এমন সর্বাত্মক সামরিক শক্তি প্রয়োগের জন্য ওয়াশিংটন প্রস্তুত বা ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সম্ভাব্য চুক্তির স্বার্থে সেই কঠোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন:

“ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলো আমাদের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে যেন আমরা আপাতত কোনো হামলা না চালাই, কারণ একটি স্থায়ী চুক্তির মৌলিক কাঠামোর বিষয়ে ইতিবাচক সমঝোতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বশান্তি ও একটি সফল ইরানের সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষরের শর্ত সাপেক্ষে আমি এই হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছি। আমাদের এই অঙ্গীকারে মিত্র দেশ ইসরায়েলও যোগ দিয়েছে। এবার সবাই দ্রুত কাজে নেমে পড়ুন এবং এটি সম্পন্ন করুন।”


চুক্তির মূল শর্তাবলি

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তির প্রধান রূপরেখায় মূলত দুটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে:

১. বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্য চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ অবলম্বে, সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া।

২. ইরানের পারমাণবিক হুমকি ও কর্মসূচির সম্পূর্ণ অবসান ঘটানো।


আঞ্চলিক কূটনৈতিক চাপ ও তেলের বাজার

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানে জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে জোরালো হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। তবে শনিবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সাথে ফোনালাপে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং হামলা না করার তাগিদ দেন। কারণ তেহরানের পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসক্ষেত্র ভস্ম হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা নাগরিকদের অবিলম্বে অঞ্চলটি ত্যাগ করার অথবা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হলেও, ট্রাম্পের এই হামলা স্থগিতের ঘোষণায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরে এসেছে। জুন মাসে স্বাক্ষরিত পূর্ববর্তী সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়ার পর এই নতুন প্রস্তাব সংঘাত বন্ধে বড় পথ খুলে দেবে বলে আশা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।