লিওনেল মেসি ও আন্তোনেলা রোকুজ্জোর প্রেম এবং দাম্পত্য যেন আধুনিক ফুটবল বিশ্বের এক জীবন্ত রূপকথা। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের ধুলোবালি মাখা শৈশব থেকে শুরু হওয়া এই সম্পর্কের প্রতিটি পর্যায় ছিল মায়া আর ত্যাগের গল্পে ঘেরা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আন্তোনেলা তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রার নেপথ্যের কঠিন লড়াই ও আবেগের কথা নতুন করে তুলে ধরেছেন।
নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজে খেলার সময় শুরু হওয়া সেই বন্ধুত্ব পূর্ণতা পায় যখন মাত্র ১৯ বছর বয়সে সব ছেড়ে মেসির টানে স্পেনে পাড়ি জমান আন্তোনেলা। বিদেশের মাটিতে পরিবার ও বন্ধুদের ছেড়ে মানিয়ে নেওয়াটা তাঁর জন্য সহজ ছিল না, তবে সেই কঠিন সময়ই তাঁকে মানসিকভাবে দৃঢ় করেছে। বার্সেলোনা থেকে পিএসজি, আর এখন ইন্টার মায়ামি—মেসির ক্যারিয়ারের প্রতিটি বাঁকে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন তিনি। ২০১২ সালে থিয়াগো, ২০১৫ সালে মাতেও এবং ২০১৮ সালে সিরোর জন্মের মাধ্যমে তাঁদের পরিবার পূর্ণতা পায়।
দীর্ঘ এই পথচলায় জর্দি আলবা বা লুইস সুয়ারেজদের মতো সতীর্থদের পরিবারই হয়ে উঠেছিল তাঁদের পরম আত্মীয়। তবে সব প্রাপ্তিকে ছাপিয়ে ২০২২ সালে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে মেসির বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্তটি ছিল তাঁদের জীবনের সবচেয়ে আবেগময় অধ্যায়। তেরো বছর বয়সে দেশ ছাড়া সেই ছোট্ট ছেলেটি যখন পরিবারের সামনে সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন, তখন যেন দীর্ঘ দুই দশকের ত্যাগের সার্থকতা খুঁজে পেলেন এই রূপকথার জুটি।