১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:৫০:০৩ অপরাহ্ন


আধুনিক, মানবিক ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যেবস্থা প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ - প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
অনলাইন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-২৭ ২০:৫৪:৪৬
আধুনিক, মানবিক ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যেবস্থা প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ - প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান I ছবি: সংগৃহীত


বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষ্যে বাণী; স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চালুর প্রত্যয়

       আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি হেপাটাইটিস প্রতিরোধ, সময়মতো পরীক্ষা এবং সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার, বেসরকারি সংগঠন, গণমাধ্যমসহ সর্বস্তরের জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

২৮ জুলাই আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হতে যাওয়া ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস’-এর এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘Let's Break It Down’ (চলুন সহজভাবে বুঝি)। প্রতিপাদ্যটির মূল উদ্দেশ্য হলো হেপাটাইটিস সম্পর্কে সমাজের ভুল ধারণা, সামাজিক ভয় ও প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সবার জন্য সহজলভ্য করা।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, হেপাটাইটিস বিশ্বের অন্যতম প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’-এর কারণে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের মতো মারাত্মক জটিলতায় আক্রান্ত হন। তবে সঠিক সময়ে টিকাদান, নিয়মিত পরীক্ষা, নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চা এবং আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিশেষায়িত চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা

দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন করা হচ্ছে, যাতে রোগীদের বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার নির্ভরতা কমে আসে।

পাশাপাশি, লিভার সিরোসিস ও ক্যানসারে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের পক্ষ থেকে এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্যপ্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

‘ই-হেলথ কার্ড’ ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা

রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার দ্রুতই ‘ই-হেলথ কার্ড’ এবং সমন্বিত রোগী তথ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা-ইতিহাস দ্রুত শনাক্তকরণ, ধারাবাহিক ফলো-আপ সেবা এবং সরকারি আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া অনেক বেশি স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।

প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকারের স্বাস্থ্যনীতির মূল দর্শন হলো ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ (প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম)। দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য বাজেট বরাদ্দ, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে লিভার চিকিৎসার অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মাধ্যমে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।

সবশেষে, সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী, গণমাধ্যম ও দেশের সকল নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০২৬-এর সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।