১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:০৮:২১ অপরাহ্ন


বিশ্বকাপ জিতেও আইডল মেসির জন্য মন কাঁদছে উদীয়মান তারকা কুবারসির!
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-২০ ১৭:০৮:২৭
বিশ্বকাপ জিতেও আইডল মেসির জন্য মন কাঁদছে উদীয়মান তারকা কুবারসির! ছবি: সংগৃহীত


 স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসির বর্তমান সময়টা স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর কাটছে। সদ্যই স্পেনের হয়ে উঁচিয়ে ধরেছেন ফুটবল বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি। আর দলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পথে নিজের অনন্য পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ জিতে নিয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের (Emerging Player) পুরস্কার। কিন্তু এত বড় ঐতিহাসিক সাফল্যের পরও ১৯ বছর বয়সী এই তরুণের মনে একচিলতে মন খারাপের মেঘ জমেছে, আর তার কারণ হলেন লিওনেল মেসি। মাঠের লড়াইয়ে যে মেসিকে হারিয়ে তিনি বিশ্বজয়ের উল্লাসে মেতেছেন, সেই মেসিই যে তাঁর জীবনের একমাত্র ফুটবল আদর্শ! তাই পরম আরাধ্য আইডলের এমন পরাজয়ে স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডারের মন কাঁদছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি নিজের শেষটা রাঙাতে পারেননি। স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণভাগের সুনিপুণ কৌশলে পুরো ম্যাচজুড়ে তাঁকে থাকতে হয়েছে কার্যত বোতলবন্দী হয়ে। আর মেসিকে বোতলবন্দী করে রাখার এই কঠিন কাজটি যিনি সবচেয়ে নিখুঁতভাবে করেছেন, তিনি স্বয়ং পাউ কুবারসি। মাঠের লড়াইয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিলেও নিজের আদর্শের এমন হারে ম্যাচ শেষে খারাপ লাগার কথা জানিয়েছেন কুবারসি। তিনি বলেন, “আমি এর আগে কখনো তাঁকে সামনাসামনি দেখিনি। যখন তিনি ম্যাচ শেষে আমার সঙ্গে হাত মেলাতে এলেন, তখনই কেবল আমার বিশ্বাস হলো যে ঘটনাটি সত্যি। তাঁর মতো কিংবদন্তির সঙ্গে একই মাঠে খেলা আমার জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি। তিনি আমার আইডল, তাই তিনি হেরে গেছেন বলে আমার খুব খারাপ লাগছে। তবে দিনশেষে আমাদের এই ঐতিহাসিক জয়ে আমি অনেক বেশি খুশি।”

আদর্শের জন্য মনের এক কোণে দুঃখবোধ থাকলেও মাঠের মহাকাব্যিক লড়াইয়ে স্পেনের এই সেন্ট্রালব্যাক ছিলেন এককথায় অনবদ্য। ফাইনাল ম্যাচের কিছু অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান দেখলেই স্পষ্ট হবে কুবারসি কতটা বিশ্বমানের খেলা উপহার দিয়েছেন। পুরো ম্যাচে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে মোট ১২৬টি পাস বাড়িয়েছিলেন কুবারসি, যার মধ্যে ১২১টি পাসই ছিল শতভাগ নিখুঁত। শতকরা হিসাবে যা দাঁড়ায় প্রায় ৯৬ ভাগ! শুধু নিজেদের রক্ষণভাগে বল ধরে রাখাই নয়, স্পেনকে তিনি টেনে নিয়ে গেছেন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগেও। প্রতিপক্ষের অর্ধে খেলা ৪৮টি পাসের মধ্যে ৪৫টিই ছিল সফল। আর নিজেদের অর্ধে ৭৮টি পাসের মধ্যে ৭৬টি পাসই সঠিকভাবে পৌঁছায় সতীর্থদের পায়ে।

ম্যাচজুড়ে বল যেন চুম্বকের মতো বারবার ১৯ বছর বয়সী এই তরুণের পায়েই ফিরে আসছিল, যার ফলে ম্যাচে তিনি সর্বোচ্চ ১৩৯ বার বল স্পর্শ করার সুযোগ পান। এর মধ্যে ৪টি দূরপাল্লার পাসের ২টি সফল করার পাশাপাশি ১টি চমৎকার কি-পাসও করেন তিনি। ঠিক কোন মুহূর্তে রক্ষণভাগ ভেঙে আক্রমণে উঠতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত কুবারসি নিয়েছেন একদম পাকা জহুরির মতো। এমনকি প্রতিপক্ষের গোলবারে লক্ষ্য করে একটি বিপজ্জনক শটও নিয়েছিলেন তিনি। আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণভাগেও কুবারসি ছিলেন দুর্ভেদ্য চীনের প্রাচীর। পুরো ১২০ মিনিটের দীর্ঘ ও স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচে এই তরুণ বল হারিয়েছেন মাত্র ৫ বার! এছাড়া ৬ বার বল ক্লিয়ার করে নিশ্চিত বিপদ এড়ানোর পাশাপাশি ৫ বার সফল বল রিকভারি করেছেন তিনি। আর্জেন্টিনার শক্তিশালী আক্রমণভাগের সঙ্গে ১০টি মুখোমুখি দ্বৈরথের (Duels) ৭টিতেই জিতেছেন এই তরুণ। বল পায়ে কুবারসি এতটাই বিপজ্জনক ছিলেন যে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়েরা তাঁকে থামাতে বাধ্য হয়ে ৩ বার ফাউল করেন।

উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশক আগে কুবারসির বর্তমান ক্লাব বার্সেলোনাই ফুটবল বিশ্বের কাছে আবিষ্কার করেছিল আজকের ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা লিওনেল মেসিকে। নিজের আঁতুড়ঘরের সেই পরম আরাধ্য কিংবদন্তিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতা কুবারসির কাছে এখনো সবকিছু এক অবাস্তব স্বপ্নের মতো লাগছে। বিশ্বকাপজয়ী এই ডিফেন্ডার বলেন, “সবকিছু কেমন যেন অবাস্তব মনে হচ্ছে। এই দারুণ ও অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার জন্য আমি ফুটবল ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। রেফারি যখন ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজালেন, আমাদের মনে হলো আমরা সত্যি ইতিহাস গড়ে ফেলেছি। আমি সব সময়ই স্বপ্ন দেখতাম একদিন বিশ্বকাপ জিতব, কিন্তু কখনো ভাবিনি নিউইয়র্কের এই ঐতিহাসিক মাঠে এসে সোনালি ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরব! ভাবলেই আমার এখনো নিজের ওপর বিশ্বাস হচ্ছে না।” স্পেনের এই শিরোপা জয়ের পেছনে কোনো একক জাদু ছিল না জানিয়ে কুবারসি বলেন, তাঁদের মূল শক্তি ছিল দলের একতা। তিনি শেষ করেন এভাবে, “এই টুর্নামেন্টে আমাদের কঠিন সব দলের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু আমরা একটা পরিবারের মতো খেলেছি এবং সেই আত্মিক বন্ধনের কারণেই আমরা আজ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।”