১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ১২:৫৯:১১ পূর্বাহ্ন


যে পাঁচ কাকতালীয় কারণে মনে করা হচ্ছে বিশ্বকাপ জিততে চলেছে আর্জেন্টিনা!
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-১৯ ২০:১৩:১৭
যে পাঁচ কাকতালীয় কারণে মনে করা হচ্ছে বিশ্বকাপ জিততে চলেছে আর্জেন্টিনা! কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর নিজ দেশে ট্রফি হাতে মেসি। ছবি: ফিফা


বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই কেবল মাঠের তুমুল লড়াই নয়, এর পাশাপাশি বিভিন্ন পরিসংখ্যান, অদ্ভুত সব কাকতালীয় ঘটনা আর নানা কুসংস্কার নিয়েও মেতে ওঠেন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী। ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মাঝে এমনই পাঁচটি চমকপ্রদ কাকতালীয় ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে, যেগুলোকে অনেকেই এবার বিশ্বজয়ের শুভ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। যদিও এগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তবুও ইতিহাস, সংখ্যা আর ঘটনাপ্রবাহের এই অবিশ্বাস্য মিল সমর্থকদের মনে বাড়তি আশাবাদ ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে।

প্রথম কাকতালীয় ঘটনাটি ঘটেছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা, যেখানে কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা করেছিলেন ফুটবল ইতিহাসের বিখ্যাত দুটি গোল—‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ এবং পরবর্তীতে সেবার শিরোপাও জিতেছিল আর্জেন্টিনা। ঠিক চার দশক পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডকে একই ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। এবার অবশ্য ম্যাচটি কোয়ার্টার ফাইনালে নয়, অনুষ্ঠিত হয়েছে সেমিফাইনালে। একই ব্যবধানের এই জয় অনেক সমর্থকের মনেই ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ের স্মৃতি নতুন করে ফিরিয়ে এনেছে।

দ্বিতীয় কারণটি লুকিয়ে আছে কোয়ার্টার ফাইনালের ৩-১ ব্যবধানের জয়ের ইতিহাসের মধ্যে। বিশ্বকাপ ফুটবলের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে মাত্র দুটি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ ৩-১ ব্যবধানে শেষ হয়েছিল; যার একটি ১৯৩৮ সালে ইতালি বনাম ফ্রান্স এবং অন্যটি ১৯৬২ সালে ব্রাজিল বনাম ইংল্যান্ডের ম্যাচ। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই অনন্য তালিকায় যুক্ত হয়েছে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারানো আর্জেন্টিনার ম্যাচটি। আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই তিনটি ক্ষেত্রেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল প্রথমে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়, পরে প্রতিপক্ষ গোল শোধ করে সমতা ফেরায় এবং শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। অতীতে ইতালি (১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৬২) দুই দলই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছিল, ফলে এবার আর্জেন্টিনা সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাইবে।

সেমিফাইলাল ম্যাচের একটি বিশেষ মুহূর্তে তিনটি জার্সি নম্বরের মধ্যে লুকিয়ে ছিল ‘১৯-৭-৪’-এর এক অদ্ভুত রহস্য। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্থে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি প্রায় একই সময়ে মাঠে নামিয়েছিলেন নিকোলাস ওতামেন্দি (জার্সি নম্বর ১৯), রদ্রিগো ডি পল (জার্সি নম্বর ৭) ও গনসালো মন্তিয়েলকে (জার্সি নম্বর ৪)। ফুটবল বোদ্ধা ও সমর্থকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই তিন ফুটবলাররের জার্সি নম্বর পাশাপাশি মেলালে দাঁড়ায় ১৯-৭-৪। যেখানে ১৯ হলো ফাইনাল ম্যাচের তারিখ (১৯ জুলাই), 7 হলো বছরের সপ্তম মাস (জুলাই), আর ৪ হলো আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপার প্রতীক। অনেকেই আবার এই ৪ সংখ্যাটিকে ফাইনাল ম্যাচ শুরুর স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার সঙ্গেও মেলাচ্ছেন।

শুধু জার্সি নম্বরই নয়, আর্জেন্টিনার করা গোল ও হজম করা গোলের সংখ্যাতেও রয়েছে ১৯ এবং ৭-এর নিখুঁত মিল। চলতি টুর্নামেন্টে ফাইনালের মহারণে নামার আগে আর্জেন্টিনা মোট ১৯টি গোল করেছে এবং বিপক্ষ দলের কাছ থেকে গোল হজম করেছে মাত্র ৭টি। অর্থাৎ, দলটির গোল ও হজমের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৯/৭, যা আবার কাকতালীয়ভাবে চলতি বিশ্বকাপ ফাইনালের তারিখের (১৯ জুলাই) সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছে। এই সংখ্যার মিলটি নিয়েও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চর্চা ও আলোচনা চলছে।

পঞ্চম এবং সর্বশেষ চমকপ্রদ মিলটি রয়েছে কোচ লিওনেল স্কালোনি ও চলমান বিশ্বকাপের মোট ম্যাচের সংখ্যার মধ্যে। আজ স্পেনের বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য মেগা ফাইনাল ম্যাচটি হবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে দলটির ১০৪তম ম্যাচ। অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ও কাকতালীয়ভাবে, আজকের এই ফাইনাল ম্যাচটি সামগ্রিকভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আসরেরও ১০৪তম ও সমাপনী ম্যাচ। এই অনন্য সংখ্যাগত মিলও সমর্থকদের কল্পনায় ও বিশ্বজয়ের স্বপ্নে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে।

যদিও এই সমস্ত ইতিহাস, জার্সি নম্বরের জাদু কিংবা অদ্ভুত সব কাকতালীয় ঘটনা সমর্থকদের মনে ব্যাপক আশাবাদ ও উন্মাদনা তৈরি করেছে, তবে দিনশেষে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ভাগ্য কিন্তু নির্ধারিত হবে মাঠের ৯০ মিনিটের নিখুঁত পারফরম্যান্সের ওপরই। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে যেমন রয়েছে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ, তেমনি দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্পেনের সামনেও রয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত এই সমস্ত ইতিহাস ও কাকতালীয় ঘটনা নাকি মাঠের কঠোর বাস্তবতা জয়ী হবে, তার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালের ৯০ মিনিট বা তার চেয়েও বেশি সময়ের লড়াই শেষে।