১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০২:৪১:৫০ পূর্বাহ্ন


সান্ত্বনার ম্যাচ খেলতে অনিচ্ছুক ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড, আজ রাতে মাঠে নামছে দুই পরাশক্তি!
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-১৮ ১৪:৪২:৩৮
সান্ত্বনার ম্যাচ খেলতে অনিচ্ছুক ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড, আজ রাতে মাঠে নামছে দুই পরাশক্তি!


বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হেরে শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে সান্ত্বনা খোঁজার লক্ষ্যে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দল দুটি। তবে এই ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আগে দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সান্ত্বনার এই ম্যাচটি আসলে কেউই খেলতে আগ্রহী ছিলেন না।

এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্স ছিল শিরোপা জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড দল ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তোলার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানোর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু সেমিফাইনালের মঞ্চে হেরে যাওয়ায় দুই দলকেই তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে এসে থমকে যেতে হয়েছে। ফলে আগামী রোববার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মুখোমুখি লড়াই দেখার পরিবর্তে, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সকে এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী নিয়মরক্ষার ম্যাচে একে অপরের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হচ্ছে।

এই ম্যাচ প্রসঙ্গে ফ্রান্সের তারকা ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের দলের কেউই মূলত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এই ম্যাচটি খেলতে চাইনি।" তবে বাস্তবতা মেনে নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, "কিন্তু আমাদের সামনে এখন এই ম্যাচটি খেলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের ফুটবলে মুখোমুখি হওয়ার একটি দীর্ঘ ও ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস রয়েছে। তাই আমরা এই ম্যাচটির জন্য অপেক্ষা করছি, দেখা যাক মাঠে কী হয়।"

ফরাসি ডিফেন্ডারের সুরেই কথা বলেছেন ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেল। ম্যাচপূর্ব প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এই ম্যাচে আসলে কেউই থাকতে চায় না।" টুখেল আরও বলেন, "সেমিফাইনালে খেলা চার দলের প্রতিটি সদস্যই চেয়েছিল নিউইয়র্কে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে। কিন্তু যেহেতু এটি বিশ্বকাপের একটি অফিশিয়াল ম্যাচ, তাই এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের জন্য গত ৬০ বছরের মধ্যে এটিই সেরা ফল অর্জনের একটি বড় সুযোগ। তাছাড়া খেলোয়াড়দের মানসিকতা এমন কোনো জিনিস নয় যা ইচ্ছে করলেই চালু কিংবা বন্ধ করা যায়। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমাদের দল যে চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে, এখন মাঠে সেটাই আবার প্রমাণ করার উপযুক্ত সময়।"

এদিকে, দলগত শিরোপার আশা শেষ হয়ে গেলেও ফ্রান্সের পোস্টারবয় কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে এখনো টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের দারুণ সুযোগ রয়েছে। এমবাপ্পে চলতি আসরে এখন পর্যন্ত ৮টি গোল করেছেন, যা আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সমান। তবে টাইব্রেকারে বা অ্যাসিস্টের দিক থেকে মেসি ৪টি অ্যাসিস্ট নিয়ে এমবাপ্পের (৩টি অ্যাসিস্ট) চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। এই গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে সমানভাবে টিকে আছেন ইংল্যান্ডের দুই তারকা হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামও, যাদের প্রত্যেকের ঝুলিতে রয়েছে ৬টি করে গোল।