১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:৫০:১৮ অপরাহ্ন


বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল মিসের ঝুঁকিতে আর্জেন্টিনার মন্টিয়েনসহ ১৮ তারকা ফুটবলার
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-০৯ ১৪:০২:৩৪
বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল মিসের ঝুঁকিতে আর্জেন্টিনার মন্টিয়েনসহ ১৮ তারকা ফুটবলার


৪৮ দলের সুবিশাল মহাযজ্ঞ শেষে ২০২৬ বিশ্বকাপ এখন রূপ নিয়েছে শীর্ষ ৮ দলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে। মাত্র একদিনের বিরতি দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকেই মাঠে গড়াচ্ছে ফুটবলের এই মেগা ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল বা শেষ আটের মহারণ। তবে সেমিফাইনালে ওঠার এই চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামার আগে বড় ধরনের এক মানসিক ও কৌশলগত দুর্ভাবনায় পড়েছেন টুর্নামেন্টে টিকে থাকা দলগুলোর অন্তত ১৮ জন ফুটবলার। কারণ, শেষ আটের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই তাঁদের দল সেমিফাইনালে পা রাখলেও ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের মাঠের বাইরে দর্শক হয়ে থাকতে হবে। এই নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে থাকা ফুটবলারদের তালিকায় আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ফেভারিট পরাশক্তিগুলোর খেলোয়াড়রা রয়েছেন।

এবারের শেষ আটের লড়াইয়ে কার্ডের দিক থেকে কিছুটা বেশি দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে ইংল্যান্ড ও আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে। কারণ, এই দুটি দলেরই সর্বোচ্চ চারজন করে ফুটবলার নকআউট রাউন্ডে ইতিমধ্যে একটি করে হলুদ কার্ড দেখে বসে আছেন। ফলে সেমিফাইনালের টিকিট অক্ষুণ্ণ রাখতে কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁদের বেশ সতর্কতার সঙ্গে মাঠে খেলতে হবে। এ ছাড়া সেমিফাইনালের আগের এই বাধা পেরোনোর লড়াইয়ে নামার আগে সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের তিনজন করে এবং স্পেন, বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা ও নরওয়ের একজন করে খেলোয়াড় হলুদ কার্ডের এই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছেন।

মূলত ২০২৬ বিশ্বকাপের পরিধি ও ফরম্যাট বৃদ্ধির কারণে হলুদ কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন এনেছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আগের নিয়ম অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে একটি দলকে পাঁচটি ম্যাচ খেলতে হতো এবং ওই সময়ের মধ্যে যেকোনো দুটি ভিন্ন ম্যাচে হলুদ কার্ড পেলেই পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ হতেন সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়। তবে ৩২ দলের পরিবর্তে ২০২৬ বিশ্বকাপে এবারই প্রথম অংশগ্রহণ করছে ৪৮টি দল, যার ফলে নকআউট পর্বে একটি বাড়তি রাউন্ড যোগ হয়েছে। ফিফা মনে করছে, বাড়তি এই রাউন্ডের কারণে ফুটবলারদের কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যাবে। আগের নিয়মে কোনো পরিবর্তন না আনা হলে সেমিফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বড় তারকাদের হারানোর তীব্র আশঙ্কা তৈরি হতো, কারণ এবার সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে খেলোয়াড়দের মোট ছয়টি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে।

এই জটিলতা এড়াতে ২০২৬ বিশ্বকাপে সম্পূর্ণ নতুন কার্ড নীতি চালু করে ফিফা। এই নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে খেলোয়াড়দের পাওয়া সব হলুদ কার্ড নকআউট পর্ব শুরুর আগেই সম্পূর্ণ বাতিল বা রিসেট করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হলে সেমিফাইনালের আগে আবারও হলুদ কার্ডের হিসাব নতুন করে শুরু হবে। তবে বিশ্বকাপের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের ভিন্ন দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলে খেলোয়াড়কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়। ফলে শেষ ৩২ কিংবা শেষ ষোলোর ম্যাচে যারা ইতোমধ্যে একটি হলুদ কার্ড পেয়েছেন, তারা কোয়ার্টার ফাইনালে আবারও সতর্কবার্তা বা হলুদ কার্ড পেলে, তাঁদের দল সেমিফাইনালে উঠলেও তারা সেই ম্যাচটি খেলতে পারবেন না। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের পর হলুদ কার্ডের তালিকা আবার নতুন করে শুরু হওয়ায় কার্ডের সংখ্যার কারণে কোনো খেলোয়াড় ফাইনালে নিষিদ্ধ হবেন না। কেবল সেমিফাইনালে লাল কার্ড পেলেই ফাইনাল মিস করবেন তারা। লাল কার্ড পাওয়া খেলোয়াড় স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হবেন এবং সহিংস আচরণের ক্ষেত্রে মাত্রা অনুসারে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি আরও বড় শাস্তি আরোপের অধিকার রাখে।

বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, আজ ৯ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল, ১৪ ও ১৫ জুলাই সেমিফাইনাল, ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এবং আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে মেগা আসরের ফাইনাল। কোয়ার্টার ফাইনালে নিষেধাজ্ঞার চরম ঝুঁকিতে থাকা ১৮ জন ফুটবলারের মধ্যে ইংল্যান্ডের রয়েছেন জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস ও মার্ক গেয়ি। মরক্কোর চার খেলোয়াড় হলেন ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল ও বিলাল এল খানুস। ফ্রান্সের তিন তারকা হলেন মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে ও ব্রাডলি বারকোলা। সুইজারল্যান্ডের ঝুঁকিতে থাকা তিন খেলোয়াড় হলেন গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া ও মিরো মুহাইম। এ ছাড়া আর্জেন্টিনার গঞ্জালো মন্টিয়িল, স্পেনের ফেররান তোরেস, বেলজিয়ামের ব্র্যান্ডন মেচেলে এবং নরওয়ের অ্যান্টোনিও নুসা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।