১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:০২:২৭ অপরাহ্ন


দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠন— এই তিন ধাপে সাজাতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সংসদ প্রতিবেদক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | কুবলাই
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৬-২৯ ১৪:৪৬:৪২
দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠন— এই তিন ধাপে সাজাতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত


বর্তমান সরকার দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠন— এই তিনটি সুনির্দিষ্ট ধাপে নতুন করে সাজাতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে কিছু বিষয়ে ঐকমত্য এবং কিছু বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও সামগ্রিকভাবে আমরা জনগণের মধ্যে একটি নতুন আশার সঞ্চার করতে পেরেছি৷ তবে সংসদে ভবিষ্যতের চেয়ে অতীত নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সাধারণ জনগণ চায় আমরা যেন অতীতকে পেছনে ফেলে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি।

এবারের বাজেটকে পুরোপুরি ‘জীবনবান্ধব’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাজেটের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া সাধারণ মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় মোট ৬১টি পণ্যের উপর থেকে আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে অন্য বছরগুলোর মতো এ বছর বাজেটের আগে কিংবা পরে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়েনি, যা সাধারণ মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পেরেছে। তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনের কারণেই আজ আমরা সংসদে এসে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছি৷ তবে বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেশের ওপর যে বিপুল পরিমাণ বিদেশি ঋণের বোঝা চাপানো হয়েছে, সেই ঋণের বোঝা দেশের জনগণকে আরও অনেক বছর টানতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সরকারপ্রধান স্পষ্ট করেন যে, এবারের বাজেট কেবল কোনো প্রথাগত বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির একটি শক্তিশালী ভিত গড়ে তুলতে চায় সরকার। এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার আর্থিক বোঝা লাঘব করবে। একই সাথে দেশের অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিনিয়োগ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনীতির চাকা গতিশীল রাখাই এই বাজেটের অন্যতম উদ্দেশ্য। দেশের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও একটি দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগ পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং সে লক্ষ্যে উন্নয়ন বাজেট এবার ৫০ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। জনগণের করের টাকা সম্পূর্ণভাবে জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ঋণনির্ভরতার চেয়ে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়ে তিনি এমন একটি দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে দেশের তরুণ সমাজ নিজেই নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।