১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন


শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবি: ট্রাইব্যুনালে ব্রিটিশ ল ফার্মের চিঠি
আদালত প্রতিবেদক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-০১ ২১:১৭:১৬
শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবি: ট্রাইব্যুনালে ব্রিটিশ ল ফার্মের চিঠি


চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করার দাবি জানিয়েছে তাঁর আইনজীবী দল। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক ল ফার্ম ‘কিংসলি ন্যাপলি’ গত ৩০ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইমেইলের মাধ্যমে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে পরিচালিত এই বিচার প্রক্রিয়াকে ‘অন্যায্য, অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

চিঠির মূল বক্তব্য ও আইনি যুক্তি কিংসলি ন্যাপলির পাঠানো চিঠিতে দাবি করা হয়েছে যে, শেখ হাসিনার বিচারে ‘আন্তর্জাতিক আইন এবং ন্যায্য বিচারের মৌলিক মানদণ্ড’ চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। জুলাই আন্দোলন দমনে উসকানি ও নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও, শেখ হাসিনা বা তাঁর দলকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো ‘ন্যায্য সুযোগ’ দেওয়া হয়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়, এক বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশে এই বিচার সম্পন্ন হয়েছে যেখানে দলীয় আইনজীবীরাও হেনস্তার শিকার হয়েছেন।

প্রসিকিউশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আইনজীবী দল তাঁদের চিঠিতে চারটি প্রধান যুক্তি তুলে ধরেছে: ১. স্বাধীনতার অভাব: বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ২. প্রসিকিউশনের পক্ষপাত: তৎকালীন প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলামের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং অতীতে জামায়াত নেতাদের পক্ষে আইনি লড়াই করার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। ৩. স্বচ্ছতার অভাব: বিচার চলাকালে প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিচারিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ৪. অধিকার বঞ্চনা: শেখ হাসিনাকে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বা প্রমাণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি এবং কোনো আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

ম্যান্ডেট ও আইন সংশোধন নিয়ে আপত্তি চিঠিতে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের মূল সাংবিধানিক উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়ে আইন সংশোধন করে জুলাই আন্দোলনের বিচার করা হয়েছে, যা ফৌজদারি আদালতের এখতিয়ারকে অগ্রাহ্য করার শামিল। কিংসলি ন্যাপলির মতে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং অনুপস্থিতিতে এই সাজা প্রদান ‘তাত্ক্ষণিক মৃত্যুদণ্ডের’ সমতুল্য।

১৪ দিনের আল্টিমেটাম চিঠিতে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় অবিলম্বে বাতিল করার পাশাপাশি তাঁর আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। এই বিষয়গুলোর সুরাহা করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তা আগামী ১৪ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে অনুরোধ করেছে ব্রিটিশ এই ল ফার্মটি। বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা বরাবরই এই বিচারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

https://drive.google.com/file/d/1JsGXKYl465cb5NAy6NAx5zzWNrRJU-nr/view