১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:০৬:০৫ অপরাহ্ন


রামপুরায় হত্যা ও নির্যাতন: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুরসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড
আদালত প্রতিবেদক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৬-২৮ ১৭:২৬:৩৪
রামপুরায় হত্যা ও নির্যাতন: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুরসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলিসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এই মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া মামলার অপর দুই আসামির মধ্যে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্যজনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার (২৮ জুন) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এই মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি তথা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। দণ্ডপ্রাপ্ত এই তিন আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। উল্লেখ্য, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে চানখাঁরপুলের আরেকটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল। এছাড়া এই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে dণ্ডিত হয়েছেন রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। আজ বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে ট্রাইব্যুনালে রায় পড়া শুরু হয়। রায়ের কার্যক্রমের শুরুতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এটি সরাসরি সম্প্রচারের অনুমতি চাইলে আদালতের সায় মিললে পুরো রায়দান প্রক্রিয়া বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

জুলাই ও আগস্ট মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে এটি পঞ্চম মামলার রায়। এই মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মোট ১৩ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়। মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে গত বছরের ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলাটিতে গত বছরের ২৩ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি শেষ হয়। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। গত ৪ মার্চ রায়ের দিন ধার্য থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে গত ১৫ জুন নতুন করে আজকের দিনটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্য ও মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের লাগাতার গুলি থেকে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। পুলিশ তাঁর পিছু ধাওয়া করলে একপর্যায়ে তিনি জীবন রক্ষার্থে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকেন। সেই অসহায় অবস্থায় এক পুলিশ সদস্য তাঁর ওপর লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে আমির হোসেন অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন। একই দিনে বনশ্রী এলাকায় পুলিশের নির্বিচার গুলিতে নাদিম এবং মায়া ইসলাম নামের আরও দুজন সাধারণ মানুষ নিহত হন, যা পরবর্তীতে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়।