১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ১২:৫৯:৪০ পূর্বাহ্ন


বৈদেশিক সব গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও এমওইউ সংসদে উপস্থাপনের দাবি বিরোধীদলীয় নেতার
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৬-২৭ ২০:০০:১৪
বৈদেশিক সব গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও এমওইউ সংসদে উপস্থাপনের দাবি বিরোধীদলীয় নেতার বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত


বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অক্ষুণ্ণ রেখে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত সব গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি। আজ শনিবার (২৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার চীন ও মালয়েশিয়া সফরের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা এই দাবি উত্থাপন করেন।

সংসদ অধিবেশনে শফিকুর রহমান বলেন, চীন ও মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। তবে বিদেশের সঙ্গে যেসব গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়, তা জনস্বার্থে এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার জন্য জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা উচিত। দেশের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে নিজের দলের অবস্থান পরিষ্কার করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল হিসেবে তাঁরা সরকারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবেন। তবে যেকোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক নীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি আরও যোগ করেন, সব ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে, যাতে কোনো পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এখনো প্রধানত আমদানিনির্ভর একটি দেশ। তৈরি পোশাক শিল্প ও জনশক্তি রপ্তানি আমাদের বৈদেশিক আয়ের প্রধান উৎস হলেও এই খাতগুলোকে আরও বহুমুখীকরণের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফরে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

সংসদীয় গণতন্ত্র ও দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদই হওয়া উচিত দেশের সব রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু। সংসদকে এড়িয়ে বা বাইপাস করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনোভাবেই ঠিক নয়। প্রচলিত নেতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন চেয়ে তিনি বলেন, সরকারি দল সব কৃতিত্ব নেবে আর বিরোধী দল শুধু চোখ বন্ধ করে বিরোধিতা করবে—এ ধরনের সস্তা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তাঁর দল বিশ্বাস করে না। দেশ গঠনে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলকেই পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সার্বিক সফলতা কামনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদকে শক্তিশালী করার মাধ্যমেই কেবল দেশের গণতন্ত্র ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা আরও সুসংহত করা সম্ভব।