১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:৩০:৩৫ অপরাহ্ন


জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-১২ ১৮:২৫:৪৭
জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান I ছবি: সংগৃহীত


অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে মাঠ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম (Zoom) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের আটটি বিভাগের মাঠ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ ভার্চুয়াল সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় দেশের আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন। সভার শুরুতে কর্মকর্তারা নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার জলাবদ্ধতার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর বর্তমান অবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মাঠপর্যায়ের চিত্র জানার পর প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই দুর্যোগপূর্ণ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই হবে প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বা শিথিলতা প্রদর্শনের বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন।

ভার্চুয়াল বৈঠকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, নির্বিঘ্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজনীয় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি মাঠ প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেন।

দুর্যোগকালীন সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু বা অপরাধী চক্র যেন কোনোভাবেই চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ কিংবা অন্য কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে না পারে, তা কঠোর হস্তে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ত্রাণ বিতরণের পুরো প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ত্রাণ পান, তা নিশ্চিত করার ওপর তাগিদ দেন। সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সামগ্রিক প্রস্তুতি, উদ্ধার কাজে বিভিন্ন সংস্থার পারস্পরিক সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে যুক্ত হওয়া কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে জানান, সেখানকার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলের মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং রংপুর বিভাগেও নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার বড় ধরনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিলেট ও রংপুরের এই বিশেষ পরিস্থিতি ও ঝুঁকির তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় জনবল ও জরুরি সরঞ্জাম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও সংস্থাকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।