পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় টিআর-কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে ১৫ শতাংশ ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়কে বদলি করা হয়েছে। তাকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় থেকে উপসচিব সানজিদা ইয়াছমিনের স্বাক্ষর করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায়কে আগামীকাল বুধবারের মধ্যেই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় ঐদিন বিকেলের পর তিনি বর্তমান কর্মস্থল থেকে ‘তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত’ (স্ট্যান্ড রিলিজড) বলে গণ্য হবেন। এদিকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন-১) তাশনূভা নাশতারান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে অধিদপ্তরের উপপরিচালক (গবেষণা) কাজী মো. বদরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ঘুষ চাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা, বললেন ১৫ পারসেন্ট যদি দেন, ৩৮ হাজার আসে’—শিরোনামের প্রতিবেদনের ভিডিওটিকে তদন্তের সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিৎ সাহা পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়ের বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এ ঘটনার তদন্তের জন্য আগামীকালের মধ্যে উপসচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা পঞ্চগড়ে পৌঁছাবেন। উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, পিআইও বাবুল চন্দ্র রায় নিজ কার্যালয়ে বসে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্রকল্পের সভাপতিদের কাছে অত্যন্ত সাবলীলভাবে ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ১৫ শতাংশ ঘুষের টাকা দাবি করছেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘১৫ পারসেন্ট যদি দেন, ৩৮ হাজার আসে।’ এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং পরে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে।