১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:৫৮:০৩ অপরাহ্ন


গ্রুপসেরা হলে নকআউটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে যারা: জেনে নিন সব সমীকরণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৬-২২ ১৬:১০:১০
গ্রুপসেরা হলে নকআউটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে যারা: জেনে নিন সব সমীকরণ


প্রথম ম্যাচে তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে নকআউট পর্বের দৌড়ে অনেকটাই নির্ভার অবস্থানে রয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে আলবিসেলেস্তেদের মূল দৃষ্টি যেহেতু ফাইনালের মঞ্চে, তাই লক্ষ্য পূরণের তাগিদে নকআউটে কখন কোন শক্তিশালী দল তাদের সামনে আসতে যাচ্ছে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকদের মাঝে চলছে তুমুল আলোচনা। বিশেষ করে আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ফলাফল লিওনেল মেসিদের পরবর্তী পথচলাকে কোন দিকে নিয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে চারদিকে নানামুখী জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।

আর্জেন্টিনা কীভাবে ‘জে’ গ্রুপ থেকে শীর্ষ দল হিসেবে পরের পর্বে যেতে পারে, শুরুতে সেই হিসাবটি দেখে নেওয়া যাক। আজ অস্ট্রিয়া এবং এর পরবর্তী ম্যাচে জর্ডানকে সরাসরি হারাতে পারলে তারা কোনো সমীকরণ ছাড়াই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে পা রাখবে। এছাড়া যদি কোনো একটি ম্যাচে পয়েন্টের হেরফেরও হয়, তাহলেও আলবিসেলেস্তেদের গ্রুপসেরা হওয়া সম্ভব। তবে সে ক্ষেত্রে আলজেরিয়া, জর্ডান এবং অস্ট্রিয়ার মধ্যকার অন্য ম্যাচগুলোর ফলাফল বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।

নকআউটের নিয়ম অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা যদি শীর্ষ দল হিসেবে পরের রাউন্ডে উন্নীত হয়, তবে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হবে ‘এইচ’ গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দলের। এই মুহূর্তে এইচ গ্রুপের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উরুগুয়ে। উরুগুয়ের সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে তিনে অবস্থান করছে কেপ ভার্দে এবং শীর্ষে রয়েছে স্পেন। তবে আর্জেন্টিনা যদি কোনো কারণে গ্রুপে দ্বিতীয় হয় এবং স্পেন এইচ গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখে, তাহলে শেষ ৩২-এর মঞ্চেই দেখা যাবে বহুল প্রতীক্ষিত আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণ। আর মেসিরা যদি কোনো কারণে গ্রুপে তৃতীয় হন, তবে তাঁদের মুখোমুখি হতে হবে গ্রুপ ডি, জি, এল, বি অথবা কে-এর যেকোনো একটি চ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে।

এইচ গ্রুপে এখনো দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বাকি রয়েছে। আগামী ২৭ জুন স্পেন মুখোমুখি হবে উরুগুয়ের এবং সৌদি আরব লড়বে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচগুলোর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে। উরুগুয়ে যদি জয়ী হয় এবং কেপ ভার্দে ড্র করে বা হেরে যায়, তবে প্রতিপক্ষ হবে স্পেন। আবার উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে উভয়েই যদি নিজ নিজ ম্যাচে জয়লাভ করে, তবে এই দুই দলের মধ্যে যার গোল ব্যবধান তুলনামূলক খারাপ হবে, তারা আর্জেন্টিনার সামনে পড়বে (বর্তমানে দুই দলেরই গোল ব্যবধান শূন্য এবং গোলসংখ্যা ২টি করে)। যদি গোল ব্যবধান ও গোলসংখ্যাও সমান থাকে, তবে ফেয়ার প্লে টেবিল বিবেচনা করা হবে, যেখানে একটি হলুদ কার্ড কম খেয়ে উরুগুয়ে বর্তমানে এগিয়ে আছে। দুটি ম্যাচই ড্র হলে একই নিয়মে প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে, তবে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে তখন প্রথম স্থানের বদলে দ্বিতীয় স্থানের জন্য লড়াই করবে।

অন্য সমীকরণে, কেপ ভার্দে যদি ৪ গোল বা তার কম ব্যবধানে জেতে এবং উরুগুয়ে ড্র করে, তবে প্রতিপক্ষ হবে কেপ ভার্দে। আর কেপ ভার্দে ঠিক ৪ গোলের ব্যবধানে জিতলে গোলসংখ্যা বা ফেয়ার প্লে পয়েন্টের ভিত্তিতে স্পেনের সঙ্গে তাদের শীর্ষস্থান নির্ধারণের হিসাব হবে। কেপ ভার্দে ৪ বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে জিতলে এবং উরুগুয়ে ড্র করলে প্রতিপক্ষ হবে স্পেন। অন্যদিকে, উরুগুয়ে না জিতে যদি সৌদি আরব জয়ী হয়, তবে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে সৌদি আরব।

উল্লেখ্য, এবারের বৈশ্বিক আসরে অলিম্পিক পদ্ধতিতে পয়েন্ট টেবিল নির্ধারিত হচ্ছে। দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে পর্যায়ক্রমে যে নিয়মগুলো অনুসরণ করা হবে তা হলো— সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নিজেদের মধ্যকার ম্যাচে অর্জিত পয়েন্ট (হেড-টু-হেড), নিজেদের মধ্যকার ম্যাচে গোল ব্যবধান, নিজেদের মধ্যকার ম্যাচে দেওয়া গোলসংখ্যা, গ্রুপের সব কটি ম্যাচ মিলিয়ে সামগ্রিক গোল ব্যবধান, পুরো গ্রুপ পর্বে দেওয়া মোট গোলসংখ্যা, কম লাল কার্ড পাওয়া দল, কম হলুদ কার্ড পাওয়া দল এবং সবশেষে এগুলোও সমান হলে দেখা হবে ফিফা র‍্যাঙ্কিং।