সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণ প্রদান থেকে বিরত রাখার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) পাঠানো এই চিঠিতে রাষ্ট্রপতির নৈতিক অবস্থান, শপথ ভঙ্গ এবং জুলাই বিপ্লবে তার বিতর্কিত ভূমিকার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির উল্লেখ করেন যে, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যখন দেশ এক চরম ক্রান্তিকাল পার করছিল, তখন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি এবং সেই সময়কার অরাজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা ছিল চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এমনকি বিপ্লব পরবর্তী দীর্ঘ সময়েও তিনি তার পূর্বের ভূমিকার জন্য কোনো প্রকার অনুতাপ প্রকাশ বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি, যা জুলাই বিপ্লবের শহিদ ও আহতদের চেতনার সরাসরি পরিপন্থী।
চিঠির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে গত ২০ ফেব্রুয়ারি দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত রাষ্ট্রপতির একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার। আইনজীবীর মতে, ওই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি কেবল জুলাই বিপ্লবের চেতনাকেই অবমাননা করেননি, বরং প্রকৃত সত্যকে অত্যন্ত সুকৌশলে এবং মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করেছেন। চিঠিতে জোরালোভাবে দাবি করা হয় যে, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে জনসম্মুখে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে তিনি তার সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গ করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী শপথ ভঙ্গের পর তিনি আর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ওই পদে বহাল থাকার কোনো নৈতিক বা আইনি অধিকার রাখেন না।
চিঠির শেষ অংশে ব্যারিস্টার কবির জুলাই বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন যেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সংসদের আসন্ন অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার অনুমতি না দেওয়া হয় এবং তিনি যেন সংসদের অধিবেশন আহ্বান করার মতো কোনো রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে না পারেন। এছাড়া দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী যেন তার সুবিধামতো কার্যকর আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, সেই মর্মেও চিঠিতে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।