১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০৩:৩০:২৩ পূর্বাহ্ন


মার্শের তাণ্ডবে ৯ ওভার হাতে রেখেই জয়ী অস্ট্রেলিয়া !
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৬-২১ ১৭:৫১:৫৩
মার্শের তাণ্ডবে ৯ ওভার হাতে রেখেই জয়ী অস্ট্রেলিয়া !


চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচটিতে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ধবলধোলাই করেছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। এর আগে মিরপুরে ওয়ানডে সিরিজ হারার প্রতিশোধ যেন তারা চট্টগ্রামেই সুদে-আসলে পুষিয়ে নিল। আজ বাংলাদেশের দেওয়া মাত্র ১১০ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া কোনো সুযোগই দেয়নি এবং ৯ ওভার হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে।

মার্শের ঝড়ো ব্যাটিং ও অজিদের সহজ জয়

১১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরু থেকেই তাণ্ডব চালান অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটাররা। মাত্র ৫ ওভারেই তারা স্কোরবোর্ডে তুলে ফেলে ৫২ রান। দলের পক্ষে অধিনায়ক মিচেল মার্শ মাত্র ২৮ বলে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় খেলেন বিধ্বংসী ৬০ রানের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে জস ইংলিসকে নাসুম আহমেদ, কুপার কনোলিকে রিশাদ হোসেন এবং হাফ-সেঞ্চুরিয়ান মিচেল মার্শকে আউট করেন শরীফুল ইসলাম। তবে শেষ দিকে টিম ডেভিড মাত্র ৩ বলের ইনিংসে দুটি ছক্কা মেরে দলের সহজ জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।

শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়

এর আগে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে সিরিজের সবচেয়ে বাজে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ দল। মাত্র ১১ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুর ৫ ওভারেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় স্বাগতিকরা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা ওপেনার তানজিদ হাসান দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউট হলে এই বিপর্যয়ের শুরু হয়। সাইফ হাসানের সোজা খেলা একটি বল বোলার স্পেন্সার জনসনের হাত ছুঁয়ে স্টাম্পে লাগলে রানআউট হন তানজিদ। ওই ওভারেরই পঞ্চম বলে মিড অফের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে ৯ বলে ১ রান করা সাইফ হাসান অধিনায়ক মিচেল মার্শের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। তিন নম্বরে নামা পারভেজ হোসেনও উইকেটে থিতু হতে পারেননি; তিনি ১৩ বলে মাত্র ১ রান করে নাথান এলিসের বলে ক্যাচ তুলে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান।

তাওহিদ হৃদয়ের একাকী লড়াই

এমন চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের পরও বাংলাদেশের সংগ্রহ যে ১০০ রান পেরিয়েছে, তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের। প্রায় একা হাতে পুরো ইনিংসে দলকে টেনে নিয়ে যাওয়া হৃদয় ৫১ বলে ৩টি চার ও সমান ৩টি ছক্কার সাহায্যে লড়াকু ৬১ রান করেন। দলের ইনিংসে উল্লেখযোগ্য পার্টনারশিপ বলতে ছিল:

  • চতুর্থ উইকেটে নুরুল হাসানের সঙ্গে হৃদয়ের ১৪ বলে ২৩ রানের জুটি।

  • ষষ্ঠ উইকেটে রিশাদ হোসেনের সঙ্গে ২০ বলে ২৬ রানের জুটি।

পুরো ইনিংসে তাওহিদ হৃদয় ছাড়া কেবল রিশাদ হোসেনই ব্যক্তিগত সংগ্রহ দুই অঙ্কে (১৪ বলে ১৬ রান) নিতে সক্ষম হয়েছেন। এত অল্প রান নিয়ে লড়াই করাটা বোলারদের জন্য কঠিন ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাদের সেই সুযোগই দেননি অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটাররা।