১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:০৩:৩১ অপরাহ্ন


দোষীদের বিচার পরে, আগে শিশুদের চিকিৎসা: হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৫-২৩ ১৬:৩৭:১৫
দোষীদের বিচার পরে, আগে শিশুদের চিকিৎসা: হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত


সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের জন্য পূর্ববর্তী সরকারের চরম গাফিলতি ও উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই জাতীয় সংকটময় মুহূর্তে দোষীদের আইনি বিচারের মুখোমুখি করার চেয়ে আক্রান্ত নিষ্পাপ শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবন বাঁচানোকেই বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আজ শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) আয়োজিত এক জরুরি স্বাস্থ্য সরঞ্জাম হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্য খাতের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান।

চিকিৎসকদের ঈদের ছুটি বাতিল ও হাসপাতালের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি

দেশের চলমান স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত শাসনামলের অবহেলার মাশুল আজ দিতে হচ্ছে দেশের হাজারো শিশুকে। তবে এখন রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বা ফাইল চালাচালির পেছনে সময় নষ্ট করার মতো বিলাসিতা করার সুযোগ নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে হামের চিকিৎসার সাথে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ছুটি না দেওয়ার মতো অত্যন্ত জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। একই সাথে দেশের প্রান্তিক ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে এই মহামারীসদৃশ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল টিকাদান, ঢাকার বাইরে আইসিইউ সংকট সমাধানের আশ্বাস

জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী ও টিকাদান সংশ্লিষ্টদের নিরলস পরিশ্রমে ইতিমধ্যে সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ কোটি ৮৪ লাখ শিশুকে সফলভাবে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। একই সাথে ঢাকার বাইরের জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেশন, আইসিইউ এবং এনআইসিইউ-এর তীব্র সংকটের বাস্তব চিত্রটি তিনি স্বীকার করে নেন। এই সংকট দ্রুত নিরসনে রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন মিটার, নেবুলাইজার ও প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী স্যালাইন সরবরাহ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

আক্রান্ত দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও অভিভাবকদের প্রতি জরুরি বার্তা

হামের চিকিৎসার পেছনে দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর যেন অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চেপে না বসে, সেজন্য এই অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মানবিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়। আইএফআরসি-এর পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকদের সাথে সরাসরি সমন্বয় করে ২ হাজার ৪০০ জন রোগীকে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে, যেখানে হামে আক্রান্ত অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরিশেষে, হামের ছোঁয়াচে সংক্রমণ শৃঙ্খল ভাঙতে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আক্রান্ত শিশুদের কোনোভাবেই জনসমাগমপূর্ণ স্থানে বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া যাবে না। সাময়িক এই আইসোলেশন ও সচেতনতাই পারে দেশের অন্য শিশুদের এই মরণব্যাধির হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে।