১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:০৪:০১ অপরাহ্ন


৫ মে আসছে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৫-০২ ১৭:৪৪:১৯
৫ মে আসছে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল ছবি: সংগৃহীত


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট দীর্ঘ দুই মাসের টানটান উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর মিলছে দেশের জ্বালানি খাতে। বিকল্প রুট ব্যবহার করে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে বাংলাদেশের পথে রওনা হয়েছে বিশাল ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ৫ মে জাহাজটি কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপকূলে পৌঁছাবে। ওই দিন থেকেই ছোট জাহাজের মাধ্যমে তেল খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং এর ঠিক দুই দিন পর অর্থাৎ ৭ মে থেকে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পুনরায় পুরোদমে উৎপাদনে ফিরবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে সাধারণ রুট এড়িয়ে এবার লোহিত সাগর উপকূলীয় বিকল্প পথ ব্যবহার করে এই তেলের চালানটি আনা হচ্ছে। গত ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। শোধনাগারটির উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ খান নিশ্চিত করেছেন যে, তেল খালাস করে কারখানায় পৌঁছানোর যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। ৫ মে তেল পৌঁছালে ৭ মে থেকেই শোধনাগারের ইউনিটগুলো সচল হবে।

দীর্ঘদিন অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) সরবরাহ না থাকায় গত ১৫ এপ্রিল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রধান দুটি ইউনিটে পরিশোধন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর দেশে আর কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ আসেনি। যুদ্ধের কারণে একটি জাহাজ সৌদি আরবের রাস তানুয়া বন্দরে আটকা পড়ে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসার কথা থাকা আরেকটি চালানের শিডিউল বাতিল হয়ে যায়। এই কাঁচামাল সংকটের কারণে ডিজেল, কেরোসিনসহ প্রধান জ্বালানিগুলোর উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কেবল একটি ইউনিটে সীমিত পরিসরে বিটুমিন ও সামান্য পেট্রোল উৎপাদন চলছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, দেশে বছরে জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন, যার বড় একটি অংশ এই ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়। নতুন এই চালানের পর চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আরও এক লাখ টন তেল নিয়ে দ্বিতীয় আরেকটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। ফলে এই সংকট দ্রুতই কেটে যাবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মজুদ আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।