১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:০০:৩০ অপরাহ্ন


সেরা ফুটবলার থেকে কীভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী হলেন টিটন?
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-৩০ ১৮:১৯:৫১
সেরা ফুটবলার থেকে কীভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী হলেন টিটন? ছবি: সংগৃহীত


ঢাকার নিউ মার্কেটে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত এক সময়ের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনের মরদেহ তার নিজ শহর যশোরে দাফন করা হয়েছে। বুধবার রাত ৮টার দিকে মরদেহ শহরের কারবালার বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। রাতেই জানাজা শেষে কারবালা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। যশোর শহরের খড়কি আপনমোড় এলাকার বাসিন্দা জুটমিল কর্মকর্তা কে এম ফকরউদ্দিনের ছেলে টিটন ছিলেন ১১ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ।

খেলোয়াড় থেকে অপরাধ জগতের শীর্ষ নাম টিটনের জীবনের শুরুটা ছিল উজ্জ্বল। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ছিলেন যশোরের একজন জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান ফুটবলার। প্রখ্যাত কোচ ইমদাদুল হক সাচ্চুর শিষ্য হিসেবে জেলা দলের আক্রমণভাগের এই খেলোয়াড় খুলনা, চুয়াডাঙ্গা ও ঢাকাতেও সুনামের সাথে খেলেছেন। তবে নব্বই দশকের শেষভাগে রাজনৈতিক কোন্দলে জড়িয়ে পড়ার পর তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। ১৯৯৮ সালে যশোরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার পর প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে অপরাধ জগতে পা বাড়ান তিনি। ১৯৯৯ সালে যশোরে একটি জোড়া খুনের ঘটনার পর তিনি এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডে নিজের আধিপত্য গড়ে তোলেন।

শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীর তালিকায় ২ নম্বর ২০০১ সালে তৎকালীন সরকারের প্রকাশিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় টিটনের নাম ছিল ২ নম্বরে। ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজেদুল ইসলাম ইমনের ছত্রছায়ায় তিনি ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও হাজারীবাগ এলাকায় শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। বাবর এলাহী হত্যাসহ একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার নাম আসায় ২০০৪ সালে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২০১৪ সালে একটি হত্যা মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডও হয়েছিল। তবে গত বছরের ১২ আগস্ট জামিনে মুক্তির পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

হত্যাকাণ্ড ও মামলার প্রেক্ষাপট মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে মোটরসাইকেলে আসা দুই মুখোশধারী টিটনকে গুলি করে হত্যা করে। নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বুধবার নিউ মার্কেট থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ৮-৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বসিলা পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। দীর্ঘ কারাভোগের পর মুক্ত হয়ে টিটন পরিবারের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে সৎ পথে চলার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন এবং হাটের ব্যবসা শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মাসুম খান জানিয়েছেন, টিটনের বিরুদ্ধে পুরোনো মামলা থাকলেও বর্তমান আপডেট তাদের কাছে নেই। তিন দশক ধরে অপরাধ ও ফুটবলের ট্র্যাজেডি নিয়ে আলোচনায় থাকা এই শীর্ষ সন্ত্রাসীর বর্ণাঢ্য অথচ অন্ধকার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো ঢাকার সড়কেই। বাড়িতে মরদেহ পৌঁছালে প্রতিবেশী ও সাবেক খেলোয়াড়রা তার খেলোয়াড় জীবনের স্মৃতিচারণ করে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন।