১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:০৮:২২ অপরাহ্ন


পাহাড়ের গভীরে ইরানের ‘মিসাইল সিটি’: হাজারো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গোপন ভাণ্ডার!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৮ ১৮:৩৬:৩৯
পাহাড়ের গভীরে ইরানের ‘মিসাইল সিটি’: হাজারো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গোপন ভাণ্ডার!


মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই নিজেদের সামরিক সক্ষমতার এক বিধ্বংসী রূপ বিশ্ববাসীকে দেখাল তেহরান। ইরানের শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (IRGC) আজ তাদের একটি অতি গোপনীয় ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির আংশিক ভিডিও ও তথ্য প্রকাশ করেছে, যাকে তারা ‘মিসাইল সিটি’ বা ক্ষেপণাস্ত্র নগরী হিসেবে অভিহিত করছে।


অজেয় এই ‘ক্ষেপণাস্ত্র নগরী’র ভেতরে কী আছে?

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই গোপন শহরগুলো মাটির কয়েকশ ফুট গভীরে এবং নিরেট পাহাড়ের নিচে অবস্থিত। আজ প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, মাইলের পর মাইল বিস্তৃত সুড়ঙ্গের ভেতর সারি সারি সাজানো রয়েছে অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সুড়ঙ্গ থেকেই কয়েক মিনিটের নোটিশে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র একসাথে নিক্ষেপ করা সম্ভব।

ইসরায়েলের জন্য বড় প্রতিরক্ষা চ্যালেঞ্জ

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ‘মিসাইল সিটি’ মূলত ইসরায়েলের সম্ভাব্য বিমান হামলা বা অনুপ্রবেশ প্রতিহত করার এক বিশাল রণকৌশল। মাটির গভীরে হওয়ায় সাধারণ বিমান হামলা বা বোমা নিক্ষেপ করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, এই ধরনের আরও বেশ কিছু গোপন স্থাপনা ইরানজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে, যা তেহরানের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বার্তা

ভিডিও প্রকাশের সময় আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কেবল তাদের সক্ষমতার একটি ছোট অংশ মাত্র। যদি শত্রু পক্ষ কোনো ভুল করে বা ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানে, তবে এই ‘নরকের দরজা’ খুলে দেওয়া হবে। তাদের দাবি, ইরানের মিসাইল ভাণ্ডার এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।

বৈশ্বিক উদ্বেগ ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশের পর ওয়াশিংটন ও তেল আবিবে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা ইরানের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতার ওপর কড়া নজর রাখছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।