‘ফিফটি শেডস’ তারকা ডাকোটা জনসনের ৩৭তম জন্মদিনে এক নজরে তাঁর অভিনীত বিতর্ক, সাফল্য ও প্রযোজক হয়ে ওঠার গল্প




হলিউডের সিনেমা অঙ্গনে অনেক তারকাই থাকেন যাঁদের ক্যারিয়ার ও পরিচয় কোনো একটি সুনির্দিষ্ট চরিত্রের ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে জড়িয়ে যায়। বিখ্যাত মার্কিন অভিনেত্রী ডাকোটা জনসনের ক্ষেত্রেও 'ফিফটি শেডস অব গ্রে' সিনেমাটি ছিল তেমনই এক অমোচনীয় মোড়।
আজ ৪ অক্টোবর ৩৭ বছরে পা দিলেন ডাকোটা জনসন।
তারকা পরিবারে জন্ম ও চলচ্চিত্রে হাতেখড়ি
১৯৮৯ সালের ৪ অক্টোবর টেক্সাসের অস্টিনে জন্ম নেওয়া ডাকোটা জনসনের ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছিল অভিনয়ের রক্ত।
‘ফিফটি শেডস’ এবং জীবনের বড় টার্নিং পয়েন্ট
ই এল জেমসের আলোচিত উপন্যাস অবলম্বনে ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’-তে আনাস্তাসিয়া স্টিল চরিত্রে জেমি ডরনানের বিপরীতে অভিনয় করে ইতিহাস গড়ে তোলেন ডাকোটা। সাহসী যৌন দৃশ্য, বিডিএসএম এবং নগ্নতার খোলামেলা উপস্থাপনের জন্য চলচ্চিত্রটি চরম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
প্রথম ছবিতেই বিশাল ব্যবসায়িক সাফল্য পাওয়ার পর একে একে আসে ‘ফিফটি শেডস ডার্কার’ এবং ‘ফিফটি শেডস ফ্রিড’। প্রায় ৪ কোটি ডলার বাজেটের প্রথম ছবিটি বিশ্বজুড়ে আয় করে প্রায় ৫৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। আর তিন ছবির পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বিশ্বজুড়ে আয় করে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি, যা ডাকোটাকে এনে দেয় বিশ্বমানের বাণিজ্যিক পরিচিতি।
নগ্ন দৃশ্য ও ‘সেক্স সিম্বল’ ট্যাগ ভাঙার চেষ্টা
‘ফিফটি শেডস’ পরবর্তীতে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নগ্ন দৃশ্য নিয়ে নিজের স্পষ্ট মতামত তুলে ধরেন ডাকোটা। তিনি বিষয়টিকে কোনো সস্তা বিতর্ক হিসেবে না দেখে নারীর নিজের শরীর ও সিদ্ধান্তের ওপর স্বাধিকার বজায় রাখার দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
তবে অতিমাত্রায় ‘সেক্স সিম্বল’ হিসেবে টাইপকাস্ট হওয়া এড়াতে তিনি সুপরিকল্পিতভাবে বৈচিত্র্যময় ধারার ছবিতে অভিনয় শুরু করেন।
প্রযোজক ডাকোটা ও বৈচিত্র্যময় পথচলা
অভিনয়জীবনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে ২০১৯ সালে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘টি টাইম পিকচার্স’ গড়ে তোলেন তিনি। প্রযোজক হিসেবে ‘চা চা রিয়েল স্মুথ’, ‘অ্যাম আই ওকে?’, এবং ‘ড্যাডিও’-র মতো প্রশংসা কুড়ানো ইন্ডিপেন্ডেন্ট চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন ডাকোটা। ২০২৪ সালে মার্ভেল ইউনিভার্সের ‘ম্যাডাম ওয়েব’ সিনেমাটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে বড় স্টুডিও বাজেটের চেয়ে স্বাধীন সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেন তিনি।
১৬৫ কোটি টাকার সম্পদ
সেলিব্রেটি নেট ওর্থের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডাকোটা জনসনের বর্তমানে আনুমানিক মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা)। ‘ফিফটি শেডস’ সিরিজের পারিশ্রমিক, বড় বড় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে সম্পৃক্ততা এবং নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ তাঁর এই বিপুল সম্পদের মূল উৎস।
ব্যক্তিজীবনে কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের জনপ্রিয় তারকা ক্রিস মার্টিনের সাথে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন থাকলেও, নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে লাইমলাইটের বাইরে আড়ালে রাখতেই ভালোবাসেন ৩৭ ছুঁয়ে ফেলা এই মার্কিন তারকা।