১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:৫১:০০ অপরাহ্ন


দুর্নীতির ৫ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ.বি.এম খায়রুল হকের জামিন বহাল!
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৮ ১৭:৪৬:৩৭
দুর্নীতির ৫ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ.বি.এম খায়রুল হকের জামিন বহাল!


ঢাকা: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পৃথক ৫টি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ.বি.এম খায়রুল হকের জামিন আজ মঙ্গলবার বহাল রেখেছেন উচ্চ আদালত। নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদকের করা রিভিশন আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন। উচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।


মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রায় পরিবর্তন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করেছিল দুদক। অভিযোগ রয়েছে, অবসরে যাওয়ার পর রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি তৈরি ও তাতে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে তিনি সাংবিধানিক শপথ লঙ্ঘন করেছেন। এসব গুরুতর অভিযোগে গত বছর তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় এবং পরবর্তীতে মামলাগুলো নথিভুক্ত করা হয়।

আদালতের শুনানি ও পর্যবেক্ষণ

আজকের শুনানিতে দুদকের পক্ষ থেকে জামিনের তীব্র বিরোধিতা করা হয়। তাদের দাবি ছিল, মামলার তদন্ত চলাকালীন জামিন বহাল থাকলে সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, খায়রুল হক শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং তিনি আইন মেনে চলায় অভ্যস্ত; তাই তাঁর জামিন বহাল রাখা ন্যায়বিচারের অংশ।

উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে বিচারপতিদের বেঞ্চ নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখেন। আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, মামলার বর্তমান অবস্থা এবং আসামির শারীরিক বিষয় বিবেচনা করে জামিন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া

আদালতের আদেশের পর খায়রুল হকের আইনজীবী গণমাধ্যমকে বলেন, "আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি যে এই মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। আদালত আজ জামিন বহাল রেখে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন।"

অন্যদিকে, দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান জানান, তাঁরা আদালতের এই আদেশের অনুলিপি পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ (আপিল বিভাগ) নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিচার বিভাগ ও জনমনে প্রতিক্রিয়া

সাবেক কোনো প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় এমন আইনি লড়াই বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে বিরল। আজকের এই রায়কে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় আইনজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে একে আইনের শাসন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।