১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:০০:৩১ অপরাহ্ন


এসএসসি-এইচএসসির সূচিতে আসছে বড় পরিবর্তন
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৮ ১৪:১৭:০৩
এসএসসি-এইচএসসির সূচিতে আসছে বড় পরিবর্তন ছবি: সংগৃহীত


দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব এবং সেশনজট নিরসনে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ আলোচিত 'একক ভর্তি পরীক্ষা' চালুর পাশাপাশি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে আনার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। সম্প্রতি সচিবালয়ে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে মূল্যবান সময় বাঁচাতে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে এইচএসসি পরীক্ষার সময়ও এগিয়ে আনা হবে, যাতে ফল প্রকাশের পরপরই কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা শুরু করা যায়।

সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, যদি এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বর-জানুয়ারি এবং এইচএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি-মার্চে আয়োজন করা সম্ভব হয়, তবে জুন মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা যাবে। এর ফলে বর্তমানের প্রচলিত সময়সূচির তুলনায় প্রায় চার মাস আগেই অর্থাৎ জুলাই মাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে। মূলত সেশনজটের কারণে লাখো শিক্ষার্থীর জীবন থেকে যে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, তা কমিয়ে আনাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

বর্তমানে দেশের উচ্চশিক্ষা স্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে বিদ্যমান ভর্তি পদ্ধতিকে। গুচ্ছ পদ্ধতিতে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও মেডিকেল কলেজসহ শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আলাদাভাবে পরীক্ষা নিচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের কয়েক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে পরীক্ষা দিতে হয়, যা চরম শারীরিক ও আর্থিক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সমন্বিত বা একক ভর্তি পরীক্ষার আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসিকে এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত একটি চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, একক ভর্তি পরীক্ষা ও সময়সূচি এগিয়ে আনার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা কমে আসবে। তবে এটি সফল করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নীতিগত ঐক্য ও শক্তিশালী সমন্বয় প্রয়োজন। এদিকে শিক্ষা বোর্ডগুলো সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানালেও, স্বল্প সময়ে পরীক্ষা ও ফলাফল ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক চাপ বাড়বে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। সব মিলিয়ে, উচ্চশিক্ষার এই নতুন পরিকল্পনা সফল হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।